৩৯/১. অধ্যায়ঃ
দেনা ও কর্জের ব্যাপারে দেহ এবং অন্য কিছুর আর্থিক দায় প্রসঙ্গে।
জামিন হওয়া: দায়িত্ব, তাওবা ও দায়ের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২২৯০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২২৯০
وَقَالَ أَبُو الزِّنَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ بَعَثَهُ مُصَدِّقًا، فَوَقَعَ رَجُلٌ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ، فَأَخَذَ حَمْزَةُ مِنَ الرَّجُلِ كَفِيلاً حَتَّى قَدِمَ عَلَى عُمَرَ، وَكَانَ عُمَرُ قَدْ جَلَدَهُ مِائَةَ جَلْدَةٍ، فَصَدَّقَهُمْ، وَعَذَرَهُ بِالْجَهَالَةِ. وَقَالَ جَرِيرٌ وَالأَشْعَثُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فِي الْمُرْتَدِّينَ اسْتَتِبْهُمْ، وَكَفِّلْهُمْ. فَتَابُوا وَكَفَلَهُمْ عَشَائِرُهُمْ. وَقَالَ حَمَّادٌ إِذَا تَكَفَّلَ بِنَفْسٍ فَمَاتَ فَلاَ شَىْءَ عَلَيْهِ. وَقَالَ الْحَكَمُ يَضْمَنُ.
আবূ যিনাদ (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু হামযা ইবনু আমর আসলামী (রহঃ)-এর মাধ্যমে তাঁর পিতা হতে হতে বর্ণিতঃ
উমর (রাঃ) তাকে সদকা উশুলকারী নিযুক্ত করে পাঠান। সেখানে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে ব্যভিচার করে বসল। তখন হামজা (রহঃ) কিছু লোককে তার পক্ষ হতে জামিন স্থির করলেন। পরে তিনি উমর (রাঃ)-এর নিকট ফিরে আসলেন। উমর (রাঃ) উক্ত লোকটিকে একশ’ বেত্রাঘাত করলেন এবং লোকদের বিবরণকে সত্য বলে গ্রহণ করলেন। তারপর লোকটিকে তার অজ্ঞতার জন্য (স্ত্রীর দাসীর সাথে যৌন সম্ভোগ করা যে অবৈধ তা সে জানত না) অব্যাহতি দেন।জারীর ও আশ‘আস (রহঃ) মুরতাদ-ধর্মচ্যুত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে বলেন, তাদেরকে তাওবা করতে বলুন এবং গোত্রের লোকেরা তাদের জামিন হয়ে গেল।হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি জামিন হবার পর মৃত্যুবরণ করে তবে সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে।হাকাম (রহঃ) বলেন, তার উপর দায়িত্ব থেকে যাবে (অর্থাৎ ওয়ারিশদের উপর সে দায়িত্ব বর্তাবে)।
সহীহ বুখারী হাদিস ২২৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই অংশে কয়েকটি আলাদা বক্তব্য এসেছে। প্রথমে উমর রাঃ-এর সময়ের একটি ঘটনা আছে, যেখানে একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে জামিন নেওয়া হয়। পরে উমর রাঃ লোকটিকে শাস্তি দেন, লোকদের বিবরণ সত্য বলে গ্রহণ করেন এবং অজ্ঞতার কারণে তাকে অব্যাহতি দেন। এরপর জারীর ও আশআস রহঃ মুরতাদদের ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাঃ-কে তাওবা করাতে ও জামিন নিতে বলেন; তারা তাওবা করে এবং গোত্রের লোকেরা তাদের জামিন হয়। শেষে হাম্মাদ রহঃ ও হাকাম রহঃ জামিনদারের মৃত্যু হলে দায় থাকবে কি না—এ বিষয়ে ভিন্ন মত বলেছেন। তাই এই বর্ণনায় জামিন, দায়িত্ব এবং বিচারিক সতর্কতার বিষয় এসেছে। এসব বক্তব্য একত্রে দেখায়, জামিনের বিষয়টি হালকা নয়; পরিস্থিতি ও দায়িত্ব বুঝে পদক্ষেপ নিতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামিন হওয়া মানে কারও ব্যাপারে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়।
- তাওবা করানো ও জামিন নেওয়ার ঘটনা বর্ণনায় এসেছে।
- অজ্ঞতার বিষয় বিবেচনা করার ঘটনাও এখানে আছে।
- জামিনদারের দায় নিয়ে আলেমদের ভিন্ন বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে।
