৩৪/৭৩. অধ্যায়ঃ
বেচা-কেনায় অবৈধ শর্তারোপ করা
বারীরা (রাঃ) ও ওয়ালার অধিকার: শর্ত হবে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী
সহীহ বুখারী : ২১৬৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২১৬৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ جَاءَتْنِي بَرِيرَةُ فَقَالَتْ كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ عَامٍ وَقِيَّةٌ، فَأَعِينِينِي. فَقُلْتُ إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ وَيَكُونَ وَلاَؤُكِ لِي فَعَلْتُ. فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا، فَقَالَتْ لَهُمْ فَأَبَوْا عَلَيْهَا، فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِهِمْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ، فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَبَوْا، إِلاَّ أَنْ يَكُونَ الْوَلاَءُ لَهُمْ. فَسَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَتْ عَائِشَةُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلاَءَ، فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ". فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ مَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ، مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ، قَضَاءُ اللَّهِ أَحَقُّ، وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ، وَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ".
‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারীরা (রাঃ) আমার কাছে এসে বলল, আমি আমার মালিক পক্ষের সাথে নয় উক্বিয়া দেয়ার শর্তে মুকাতাবা [১১] করেছি- প্রতি বছর যা হতে এক উক্বিয়া করে দেয়া হবে। আপনি (এ ব্যাপারে) আমাকে সাহায্য করুন।আমি বললাম, যদি তোমার মালিক পক্ষ পছন্দ করে যে, আমি তাদের একবারে তা পরিশোধ করব এবং তোমার ওয়ালা-এর অধিকার আমার হবে, তবে আমি তা করব।তখন বারীরা (রাঃ) তার মালিকদের নিকট গেল এবং তাদের তা বলল। তারা তা অস্বীকার করল। বারীরা (রাঃ) তাদের নিকট হতে (আমার কাছে) এল। আর তখন আল্লাহর রসূল (ﷺ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন।সে বলল, আমি (আপনার) সে কথা তাদের কাছে পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারা নিজেদের জন্য ওয়ালার অধিকার সংরক্ষণ ছাড়া রাজী হয় নি।নবী (ﷺ) তা শুনলেন, আয়েশা (রাঃ) নবী (ﷺ)-কে তা সবিস্তারে জানালেন। তিনি বললেন, তুমি তাকে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত মেনে নাও। কেননা, ওয়ালা-এর হক তারই, যে মুক্ত করে।আয়েশা (রাঃ) তাই করলেন। এরপর আল্লাহর রসূল (ﷺ) জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, লোকদের কি হল যে, তারা এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর বিধানে নেই? আল্লাহর বিধানে যে শর্তের উল্লেখ নেই, তা বাতিল বলে গণ্য হবে, শত শর্ত হলেও। আল্লাহর ফায়সালাই সঠিক, আল্লাহর শর্তই সুদৃঢ়। ওয়ালার হক তো তারই, যে মুক্ত করে।
[১১] নিজের দাস-দাসীকে কোন কিছুর বিনিময়ে আযাদ করার চুক্তিকে মুকাতাবা বলে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২১৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে বারীরা (রাঃ)-এর মুকাতাবা, আয়েশা (রাঃ)-এর সাহায্য, মালিক পক্ষের শর্ত এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশনা এসেছে। বারীরা (রাঃ) প্রতি বছর এক উকিয়া করে নয় উকিয়া দেওয়ার শর্তে মুক্তির চুক্তি করেছিলেন। আয়েশা (রাঃ) একবারে তা পরিশোধ করে তাকে নিতে চান, তবে ওয়ালার অধিকার নিজের জন্য রাখার কথা বলেন। মালিক পক্ষ রাজি হয়নি, তারা ওয়ালা নিজেদের জন্য রাখতে চেয়েছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, আয়েশা (রাঃ) তাকে নিয়ে নেবেন, কারণ ওয়ালার হক তারই, যে মুক্ত করে। পরে তিনি জনসমক্ষে বলেন, আল্লাহর বিধানে নেই এমন শর্ত বাতিল, তা শত শর্ত হলেও। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, চুক্তির শর্ত আল্লাহর বিধানের বিপরীতে হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। “বারীরা হাদিস”, “ওয়ালার অধিকার” এবং “বাতিল শর্ত” এই বর্ণনার প্রধান বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়ালার অধিকার সেই ব্যক্তির, যে মুক্ত করে—এ কথা হাদিসে স্পষ্ট এসেছে।
- আল্লাহর বিধানে নেই এমন শর্ত বাতিল বলে গণ্য হবে।
- চুক্তি করার সময় শরিয়তের নির্দেশনার সঙ্গে শর্ত মিলিয়ে দেখা জরুরি।
- জনসমক্ষে ভুল শর্তের বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم পরিষ্কার শিক্ষা দিয়েছেন।
