৩৪/১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (ইরশাদ করেছেন):
﴿فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا قُلْ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ اللَّهْوِ وَمِنَ التِّجَارَةِ وَاللَّهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ﴾“সালাত শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার। যখন তারা দেখল ব্যবসায় কৌতুক তখন তারা আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল। বলুন, আল্লাহর নিকট যা আছে, তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।” (জুমু‘আ: ১০)وَقَوْلُهُ ﴿لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ﴾আর আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “তোমরা পরস্পর পরস্পরের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কিন্তু তোমাদের পরস্পর সন্তুষ্টচিত্তে ব্যবসা করা বৈধ।” (আন-নিসা: ২৯)"
হালাল ব্যবসা ও ওয়ালীমা: আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২০৪৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০৪৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ ـ رضى الله عنه ـ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ آخَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنِي وَبَيْنَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ فَقَالَ سَعْدُ بْنُ الرَّبِيعِ إِنِّي أَكْثَرُ الأَنْصَارِ مَالاً، فَأَقْسِمُ لَكَ نِصْفَ مَالِي، وَانْظُرْ أَىَّ زَوْجَتَىَّ هَوِيتَ نَزَلْتُ لَكَ عَنْهَا، فَإِذَا حَلَّتْ تَزَوَّجْتَهَا. قَالَ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لاَ حَاجَةَ لِي فِي ذَلِكَ، هَلْ مِنْ سُوقٍ فِيهِ تِجَارَةٌ قَالَ سُوقُ قَيْنُقَاعَ. قَالَ فَغَدَا إِلَيْهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، فَأَتَى بِأَقِطٍ وَسَمْنٍ ـ قَالَ ـ ثُمَّ تَابَعَ الْغُدُوَّ، فَمَا لَبِثَ أَنْ جَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَلَيْهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَزَوَّجْتَ ". قَالَ نَعَمْ. قَالَ " وَمَنْ ". قَالَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ. قَالَ " كَمْ سُقْتَ ". قَالَ زِنَةَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ نَوَاةً مِنْ ذَهَبٍ. فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ ".
‘আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা যখন মদিনায় আসি, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার এবং সাদ ইবন রাবী (রাঃ) এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি করে দেন। পরে সাদ ইবন রাবী (রাঃ) বললেন, আমি আনসারদের মধ্যে অধিক ধনাঢ্য ছিলাম। আমার অর্ধেক সম্পত্তি তোমাকে বন্টন করে দিচ্ছি এবং আমার উভয় স্ত্রীকে দেখে যাকে তোমার পছন্দ হয়, বল আমি তাকে তোমার জন্য পরিত্যাগ করব। যখন সে (ইদ্দত পূর্ণ করবে) তখন তুমি বিবাহ করবে।আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, এ সবে আমার কোন প্রয়োজন নেই। বরং (আপনি বলুন) ব্যবসা-বাণিজ্য করার মতো কোন বাজার আছে কি? তিনি বললেন, কায়নুকার বাজার আছে। পরদিন আবদুর রহমান (রাঃ) সে বাজারে গিয়ে পনীর ও ঘি (খরিদ করে) নিয়ে আসলেন। এরপর ক্রমাগত যাওয়া-আসা করতে থাকেন। কিছুকাল পরে আবদুর রহমান (রাঃ) এর কাপড়ে বিয়ের হলুদ রঙের চিহ্ন দেখা গেল। এরপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে কে? তিনি বললেন, জনৈকা আনসারী মহিলা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী পরিমাণ মোহর দিয়েছ? আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, খেজুরের এক আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদিনায় হিজরতের পর মুসলিম ভ্রাতৃত্বের সুন্দর একটি ছবি দেখা যায়। রাসূল (صلى الله عليه وسلم) আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) ও সাদ ইবন রাবী (রাঃ)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন। সাদ (রাঃ) নিজের সম্পদের অর্ধেক দেওয়ার কথাও বলেন এবং পারিবারিক সাহায্যের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, এ সবের প্রয়োজন নেই; বরং ব্যবসা করার বাজার কোথায় তা জানতে চান। তিনি কায়নুকার বাজারে যান, পনির ও ঘি নিয়ে আসেন এবং ব্যবসায় চলতে থাকেন। পরে তাঁর বিয়ের চিহ্ন দেখে নবী (صلى الله عليه وسلم) মোহর জানতে চান এবং বলেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর। এই হাদিসে দানশীলতা, আত্মনির্ভরতা, হালাল ব্যবসা ও বিয়ের সামাজিক ঘোষণা—সবই সংযতভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভাইয়ের প্রতি উদারতা দেখানো ইসলামী চরিত্রের অংশ।
- সক্ষম হলে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা প্রশংসনীয়।
- বিয়ের পর সামর্থ্য অনুযায়ী ওয়ালীমা করা নববী নির্দেশের মধ্যে এসেছে।
