৩১/১. অধ্যায়ঃ
কিয়ামে রমজান- এর (রমজানে তারাবীর সালাতের) গুরুত্ব।
তারাবীহ ও নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর দয়া: ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
সহিহ বুখারী : ২০১২
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০১২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ لَيْلَةً مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ، فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ، وَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلاَتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا، فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ، فَصَلَّوْا مَعَهُ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا، فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى، فَصَلَّوْا بِصَلاَتِهِ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ، حَتَّى خَرَجَ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ، فَلَمَّا قَضَى الْفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَتَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَىَّ مَكَانُكُمْ، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْتَرَضَ عَلَيْكُمْ فَتَعْجِزُوا عَنْهَا ". فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ
‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) গভীর রাতে বের হয়ে মসজিদে সালাত আদায় করেন, কিছু সংখ্যক পুরুষ তাঁর পিছনে সালাত আদায় করেন। সকালে লোকেরা এ সম্পর্কে আলোচনা করেন, ফলে লোকেরা অধিক সংখ্যায় সমবেত হন। তিনি সালাত আদায় করেন এবং লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। সকালে তাঁরা এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। তৃতীয় রাতে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। এরপর আল্লাহর রসূল (ﷺ) বের হয়ে সালাত আদায় করেন ও লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসল্লির সংকুলান হল না, কিন্তু তিনি রাতে আর বের না হয়ে ফজরের সালাতে বেরিয়ে আসলেন এবং সালাত শেষে লোকদের দিকে ফিরে প্রথমে তাওহীদ ও রিসালতের সাক্ষ্য দেয়ার পর বললেনঃ শোন! তোমাদের (গতরাতের) অবস্থান আমার অজানা ছিল না, কিন্তু আমি এই সালাত তোমাদের উপর ফরজ হয়ে যাবার আশংকা করছি (বিধায় বের হই নাই) কেননা তোমরা তা আদায় করায় অপারগ হয়ে পড়তে। আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর ওফাত হলো আর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে যায়।
সহিহ বুখারী হাদিস ২০১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের রাতের সালাতের একটি গভীর শিক্ষা আছে। আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) গভীর রাতে মসজিদে সালাত আদায় করেন। কিছু পুরুষ তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। পরের রাতে মানুষ আরও বেশি হয়, তৃতীয় রাতেও সংখ্যা বাড়ে। চতুর্থ রাতে মসজিদে জায়গা কম পড়ে যায়, কিন্তু নবীজি (صلى الله عليه وسلم) রাতে বের হননি। ফজরের সালাতের পর তিনি জানান, তিনি লোকদের অবস্থান জানতেন; কিন্তু আশঙ্কা করেছিলেন, এই সালাত তাদের উপর ফরজ হয়ে যেতে পারে, তখন তারা তা আদায়ে অক্ষম হয়ে পড়বে। তাই এই হাদিসে তারাবীহ, কিয়ামে রমজান এবং উম্মতের প্রতি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর দয়ার দিকটি স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) রমজানের রাতে মসজিদে সালাত আদায় করেছেন।
- লোকেরা তাঁর পিছনে সালাত আদায় করতে জমা হয়েছিল।
- তিনি উম্মতের কষ্টের আশঙ্কায় রাতে বের হননি।
