২৯/১৩. অধ্যায়ঃ

হাদিস ১৮৮৯

মদীনাকে প্রিয় ও বরকতময় করার দোয়া: নবীজির মমতার ছবি

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৮৮৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وُعِكَ أَبُو بَكْرٍ وَبِلاَلٌ، فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ إِذَا أَخَذَتْهُ الْحُمَّى يَقُولُ كُلُّ امْرِئٍ مُصَبَّحٌ فِي أَهْلِهِ وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ وَكَانَ بِلاَلٌ إِذَا أُقْلِعَ عَنْهُ الْحُمَّى يَرْفَعُ عَقِيرَتَهُ يَقُولُ أَلاَ لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ وَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مَجَنَّةٍ وَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُ قَالَ اللَّهُمَّ الْعَنْ شَيْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ، وَعُتْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ، وَأُمَيَّةَ بْنَ خَلَفٍ، كَمَا أَخْرَجُونَا مِنْ أَرْضِنَا إِلَى أَرْضِ الْوَبَاءِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ، اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا، وَفِي مُدِّنَا، وَصَحِّحْهَا لَنَا وَانْقُلْ حُمَّاهَا إِلَى الْجُحْفَةِ ‏"‏‏.‏ قَالَتْ وَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ، وَهْىَ أَوْبَأُ أَرْضِ اللَّهِ‏.‏ قَالَتْ فَكَانَ بُطْحَانُ يَجْرِي نَجْلاً‏.‏ تَعْنِي مَاءً آجِنًا‏.‏

‘আয়িশা‌ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (ﷺ) মদীনায় শুভাগমন করলে আবু বকর (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ) জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আবু বকর (রাঃ) জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লে তিনি এ কবিতাংশটি আবৃত্তি করতেনঃ “প্রত্যেকেই স্বীয় পরিবারের মাঝে দিনাতিপাত করছে, অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতা অপেক্ষা সন্নিকটবর্তী।” আর বিলাল (রাঃ) জ্বর থেকে সেরে উঠলে উচ্চৈঃস্বরে এ কবিতাংশ আবৃত্তি করতেনঃ “হায়, আমি যদি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে মক্কার প্রান্তরে একটি রাত কাটাতে পারতাম আর আমার চারদিকে থাকত ইযখির এবং জালিল ঘাস। মাজান্না ঝর্ণা পানি পানের সুযোগ কখনো হবে কি? আমার জন্য শামা এবং ত্বফীল পাহাড় প্রকাশিত হবে কি?” আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি শায়বা ইবন রবী'আ, উতবা ইবন রবী'আ এবং উমাইয়া ইবন খালাফের প্রতি লা’নত বর্ষণ কর; যেমনিভাবে তাঁরা আমাদের মাতৃভূমি হতে বের করে মহামারীর দেশে ঠেলে দিয়েছে। এরপর আল্লাহর রসূল (ﷺ) দোয়া করলেনঃ হে আল্লাহ! মদীনাকে আমাদের নিকট মক্কার মত বা তার চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও। হে আল্লাহ! আমাদের সা’ ও মুদে বরকত দান কর এবং মদীনাকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর বানিয়ে দাও। এর জ্বরের প্রকোপকে বা মহামারীকে 'জুহফায়' স্থানান্তরিত করে দাও। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমরা যখন মদীনা এসেছিলাম তখন তা ছিল আল্লাহর জমীনে সর্বাপেক্ষা অধিক মহামারীর স্থান। তিনি আরও বলেন, সে সময় মদীনায় 'বুতহান' নামক স্থানে একটি ঝর্ণা ছিল যেখানে হতে বর্ণ ও বিকৃত স্বাদের পানি প্রবাহিত হত।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৮৮৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মদীনায় হিজরতের পরের কষ্ট ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দোয়া এসেছে। আবু বকর (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিলাল (রাঃ) মক্কার কথা স্মরণ করে কবিতার মতো কথা বলতেন। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) দোয়া করেন, হে আল্লাহ! মদীনাকে আমাদের কাছে মক্কার মতো বা তার চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও। তিনি সা’ ও মুদে বরকত চান, মদীনাকে স্বাস্থ্যকর করার দোয়া করেন এবং জ্বরকে জুহফায় সরিয়ে দেওয়ার দোয়া করেন। এই হাদিসে মদীনার ভালোবাসা, বরকত, স্বাস্থ্য ও কষ্টের সময় আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কষ্টের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা নববী পথ।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) মদীনাকে প্রিয় করে দেওয়ার দোয়া করেছেন।
  • খাদ্য মাপের সা’ ও মুদে বরকতের দোয়া করা হয়েছে।
  • মদীনাকে স্বাস্থ্যকর করার দোয়া হাদিসে এসেছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন