৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
সামনের এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ব্যতীত অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ﴾আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর কারণে: “অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার হতে আসে।” (সূরা আন-নিসা ৪/৪৩)وَقَالَ عَطَاءٌ فِيمَنْ يَخْرُجُ مِنْ دُبُرِهِ الدُّودُ أَوْ مِنْ ذَكَرِهِ نَحْوُ الْقَمْلَةِ يُعِيدُ الْوُضُوءَ‘আত্বা (রহ.) বলেন, যার পেছনের রাস্তা দিয়ে পোকা বের হয় অথবা যার পুরুষাঙ্গ দিয়ে উকুনের ন্যায় কিছু বের হয়, তার পুনরায় ওযু করতে হবে。وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِذَا ضَحِكَ فِي الصَّلَاةِ أَعَادَ الصَّلَاةَ وَلَمْ يُعِدِ الْوُضُوءَ وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ أَخَذَ مِنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ أَوْ خَلَعَ خُفَّيْهِ فَلَا وُضُوءَ عَلَيْهِ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ الرِّقَاعِ فَرُمِيَ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَنَزَفَهُ الدَّمُ فَرَكَعَ وَسَجَدَ وَمَضَى فِي صَلَاتِهِ وَقَالَ الْحَسَنُ مَا زَالَ الْمُسْلِمُونَ يُصَلُّونَ فِي جِرَاحَاتِهِمْ وَقَالَ طَاوُسٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ وَعَطَاءٌ وَأَهْلُ الْحِجَازِ لَيْسَ فِي الدَّمِ وُضُوءٌ وَعَصَرَ ابْنُ عُمَرَ بَثْرَةً فَخَرَجَ مِنْهَا الدَّمُ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَبَزَقَ ابْنُ أَبِي أَوْفَى دَمًا فَمَضَى فِي صَلَاتِهِ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَالْحَسَنُ فِيمَنْ يَحْتَجِمُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا غَسْلُ مَحَاجِمِهِ.জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, কেউ সালাত অবস্থায় হেসে ফেললে পুনরায় শুধুমাত্র সালাতই আদায় করবে, পুনঃ ওযু করবে না। হাসান (রহ.) বলেন, কেউ যদি চুল অথবা নখ কাটে অথবা তার মোজা খুলে ফেলে তবে তার পুনরায় ওযু করতে হবে না। আবূ হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘হাদাস’ ব্যতীত অন্য কিছুতে ওযুর প্রয়োজন নেই। জাবির (রা.) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ‘যাতুর রিকা’-এর যুদ্ধে ছিলেন। সেখানে জনৈক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হলেন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল, কিন্তু তিনি (সে অবস্থায়ই) রুকু করলেন, সিজদা করলেন এবং সালাত আদায় করতে থাকলেন। হাসান (রহ.) বলেন, মুসলিমগণ সব সময়ই তাদের যখম অবস্থায় সালাত আদায় করতেন এবং তাউস (রহ.), মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী (রহ.), ‘আত্বা (রহ.) ও হিজাযবাসীগণ বলেন, রক্তক্ষরণে ওযু করতে হয় না। ইবন ‘উমার (রা.) একদা একটি ছোট ফোঁড়া টিপ দিলেন, তা থেকে রক্ত বের হল, কিন্তু তিনি ওযু করলেন না। ইবন আবূ আওফা (রা.) রক্ত মিশ্রিত থুথু ফেললেন কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে থাকলেন। ইবন ‘উমার (রা.) ও হাসান (রহ.) বলেন, কেউ শিঙ্গা লাগালে কেবল তার শিঙ্গা লাগানো স্থানই ধুয়ে ফেলা দরকার।
তাড়াহুড়ায় মনি না বের হলে ওযু: আনসারী ব্যক্তির হাদিস
সহীহ বুখারী : ১৮০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৮০
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَجَاءَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَعَلَّنَا أَعْجَلْنَاكَ ". فَقَالَ نَعَمْ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أُعْجِلْتَ أَوْ قُحِطْتَ، فَعَلَيْكَ الْوُضُوءُ ". تَابَعَهُ وَهْبٌ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَلَمْ يَقُلْ غُنْدَرٌ وَيَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ الْوُضُوءُ.
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি আল্লাহর রসূল (ﷺ) জনৈক আনসারীর নিকট লোক পাঠালেন। তিনি আসলেন। তখন তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল। নবী (ﷺ) বললেন: ‘সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়া করতে বাধ্য করেছি।’ তিনি বললেন, ‘জি’।আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেন: যখন তাড়াহুড়ার কারণে মনী বের না হয় (অথবা বললেন), মনীর অভাবজনিত কারণে তা বের না হলে তখন ওযু করে নিবে [২]। ওয়াহ্ব (রহঃ) শু’বাহ (রহঃ) সূত্রে এ রকমই বর্ণনা করেন। তিনি [শু’বাহ (রহঃ)] বলেন, আবু আব্দুল্লাহ (রহঃ) বলেছেন: গুনদার (রহঃ) ও ইয়াহিয়া (রহঃ) শু’বাহ (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনায় ওযুর কথা উল্লেখ করেননি।
(মুসলিম ৩/২১, হাঃ ৩৪৫, আহমাদ ১১১৬২, ১১২০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮০)[২] এটি পূর্বের হুকুম যা পরে রহিত হয়ে গেছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৮০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ওযু। এই হাদিসে আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) এক আনসারী ব্যক্তির কাছে লোক পাঠালেন। তিনি এলেন, আর তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) বুঝলেন, হয়তো তাঁকে তাড়াহুড়া করে আসতে হয়েছে। তিনি বললেন, সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়া করিয়েছি। তিনি জবাব দিলেন, জি। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তাড়াহুড়ার কারণে বা মনি না বের হওয়ার অবস্থায় ওযু করে নেবে। বর্ণনার শেষে রাবিদের কিছু ভিন্নতার কথাও এসেছে। তাই ব্যাখ্যায় সতর্কভাবে বলা দরকার, এই পাঠে তাড়াহুড়ার অবস্থায় ওযুর কথা উল্লেখ আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাড়াহুড়ার অবস্থায় করণীয় বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم) সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন।
- মনি না বের হওয়ার প্রসঙ্গে এই বর্ণনায় ওযুর কথা এসেছে।
- হাদিস বুঝতে বর্ণনার ভাষা ও রাবিদের উল্লেখ সতর্কভাবে দেখা দরকার।
