২৬/১১. অধ্যায়ঃ
উমরা আদায়কারী কখন হালাল হবে (ইহরাম খুলবে)?
وَقَالَ عَطَاءٌ عَنْ جَابِرٍ ؓ أَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ أَصْحَابَهُ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً وَيَطُوفُوا ثُمَّ يُقَصِّرُوا وَيَحِلُّوا‘আত্বা (রহ.) সূত্রে জাবির (রা.) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণকে তাদের হজ্জকে ‘উমরায় রূপান্তরিত করার পর তাওয়াফ করে চুল ছেঁটে হালাল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন"
তাওয়াফ ও সাঈর পর হালাল হওয়া: আবু মূসা (রাঃ)-এর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ১৭৯৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৯৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَدِمْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالْبَطْحَاءِ وَهُوَ مُنِيخٌ فَقَالَ " أَحَجَجْتَ ". قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ " بِمَا أَهْلَلْتَ ". قُلْتُ لَبَّيْكَ بِإِهْلاَلٍ كَإِهْلاَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَحْسَنْتَ. طُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ أَحِلَّ ". فَطُفْتُ بِالْبَيْتِ، وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ قَيْسٍ، فَفَلَتْ رَأْسِي، ثُمَّ أَهْلَلْتُ بِالْحَجِّ. فَكُنْتُ أُفْتِي بِهِ، حَتَّى كَانَ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ فَقَالَ إِنْ أَخَذْنَا بِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُنَا بِالتَّمَامِ، وَإِنْ أَخَذْنَا بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْىُ مَحِلَّهُ.
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মক্কার 'বাতহা'-য় অবতরণ করলে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ তুমি কি হজ করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছিলে? আমি বললাম, নবী (ﷺ)-এর ইহরামের মত আমিও ইহরামের তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেনঃ ভাল করেছ। এখন বাইতুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ করে হালাল হয়ে যাও।অতঃপর আমি বাইতুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ করে কায়স গোত্রের এক মহিলার কাছে গেলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল।এরপর আমি হজের ইহরাম বাঁধলাম এবং উমর (রাঃ)-এর খিলাফত পর্যন্ত আমি এভাবেই ফাতওয়া দিতে থাকি। উমর (রাঃ) বললেন, যদি আমরা আল্লাহর কিতাব গ্রহণ করি সেটা তো আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি আমরা নবী (ﷺ)-এর বাণী গ্রহণ করি তাহলে নবী (ﷺ) কুরবানীর পশু তার স্থানে পৌঁছার (যবেহ করার) পূর্ব পর্যন্ত হালাল হননি।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু মূসা আশআরী (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বাতহা এলাকায় উপস্থিত হন। নবীজি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি হজ করেছেন কি না এবং কী ইহরাম বেঁধেছেন। আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তিনি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর ইহরামের মতোই তালবিয়া পাঠ করেছেন। নবীজি বলেন, ভালো করেছ; এখন বাইতুল্লাহ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করে হালাল হয়ে যাও। তিনি তাই করেন। পরে তিনি হজের ইহরাম বাঁধেন। হাদিসের শেষে উমর (রাঃ)-এর বক্তব্যও এসেছে, যেখানে কুরবানির পশু তার স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত নবীজির হালাল না হওয়ার কথা স্মরণ করানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) আবু মূসা (রাঃ)-কে তাওয়াফ ও সাঈ করে হালাল হতে বলেন।
- ইহরামের ধরন জানতে প্রশ্ন করা হয়েছে, যা আমলের সঠিকতা বুঝতে সাহায্য করে।
- কুরবানির পশু সঙ্গে থাকলে হালাল হওয়ার বিষয়ে আলাদা অবস্থা ছিল।
