২৫/১২৪. অধ্যায়ঃ
কী পরিমাণ কুরবানির গোশত ভক্ষণ করবে এবং কী পরিমাণ সদকা করবে?
وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا لَا يُؤْكَلُ مِنْ جَزَاءِ الصَّيْدِ وَالنَّذْرِ وَيُؤْكَلُ مِمَّا سِوَى ذَلِكَ وَقَالَ عَطَاءٌ يَأْكُلُ وَيُطْعِمُ مِنَ الْمُتْعَةِ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.) নাফি (রহ.) সূত্রে ইবন ‘উমার (রা.) হতে বর্ণিত। শিকারের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ এবং মানতের জন্য যে জানোয়ার যবহ করা হয়, তা খাওয়া যাবে না। এছাড়া অন্যান্য সব কুরবানীর গোশত খাওয়া যাবে। ‘আত্বা (রহ.) বলেন, তামাত্তুর কুরবানীর গোশত খেতে পারবে এবং (অন্যকেও) খাওয়াতে পারবে।"
হাদ্য ছাড়া হজ্জে হালাল হওয়া: তাওয়াফ ও স্ত্রীদের পক্ষ থেকে কুরবানি
সহিহ বুখারী : ১৭২০
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭২০
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى قَالَ حَدَّثَتْنِي عَمْرَةُ قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ وَلاَ نُرَى إِلاَّ الْحَجَّ حَتَّى إِذَا دَنَوْنَا مِنْ مَكَّةَ أَمَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ يَحِلُّ قَالَتْ عَائِشَةُ فَدُخِلَ عَلَيْنَا يَوْمَ النَّحْرِ بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقِيلَ ذَبَحَ النَّبِيُّ عَنْ أَزْوَاجِهِ قَالَ يَحْيَى فَذَكَرْتُ هَذَا الْحَدِيثَ لِلْقَاسِمِ فَقَالَ أَتَتْكَ بِالْحَدِيثِ عَلَى وَجْهِهِ
‘আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যুল-কায়দার পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হজ্জ ব্যতীত আমরা অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি, অবশেষে আমরা যখন মক্কার নিকটে পৌঁছলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানির জানোয়ার নেই সে যেন বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করে হালাল হয়ে যায়।আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর কুরবানির দিন আমাদের কাছে গরুর গোশত পাঠানো হল। আমি বললাম, এ কী? বলা হল, নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের তরফ হতে কুরবানি করেছেন।ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, আমি কাসিম (রহঃ)-এর নিকট হাদীসটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, ‘আমরা (রহঃ) হাদীসটি ঠিক ভাবেই তোমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
(২৯৪) (আঃপ্রঃ ১৬০২, ইঃফাঃ ১৬০৯)
সহিহ বুখারী হাদিস ১৭২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, যুল-কায়দার পাঁচ দিন বাকি থাকতে তাঁরা রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে বের হন এবং হজ্জ ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেননি। মক্কার কাছে পৌঁছালে নবী (صلى الله عليه وسلم) নির্দেশ দেন, যার সঙ্গে কুরবানির জানোয়ার নেই, সে যেন বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করে হালাল হয়ে যায়। পরে কুরবানির দিন তাঁদের কাছে গরুর গোশত পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসা করলে বলা হয়, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছেন। এই হাদিস ১৭০৯-এর মতো একই মূল বিষয়ের বর্ণনা হলেও এখানে সাফা-মারওয়ার কথা অনুবাদে সরাসরি নেই; তাই ব্যাখ্যায় শুধু তাওয়াফ ও হালাল হওয়ার বাক্য ধরে বলা ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার কথা আয়িশা (রাঃ) স্পষ্ট করেছেন।
- যার সঙ্গে হাদ্য নেই, তাকে তাওয়াফের পর হালাল হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) স্ত্রীদের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছেন বলে বর্ণনায় এসেছে।
