২৫/৫৭. অধ্যায়ঃ
হজ্জ ও উমরাতে রামল করা।
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন: বিশ্বাস নয়, সুন্নাহ অনুসরণ
সহীহ বুখারী : ১৬০৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬০৫
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لِلرُّكْنِ أَمَا وَاللهِ إِنِّي لأعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لاَ تَضُرُّ وَلاَ تَنْفَعُ وَلَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَلَمَكَ مَا اسْتَلَمْتُكَ فَاسْتَلَمَهُ ثُمَّ قَالَ فَمَا لَنَا وَلِلرَّمَلِ إِنَّمَا كُنَّا رَاءَيْنَا بِهِ الْمُشْرِكِينَ وَقَدْ أَهْلَكَهُمْ اللهُ ثُمَّ قَالَ شَيْءٌ صَنَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلاَ نُحِبُّ أَنْ نَتْرُكَ
‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, “ওহে! আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতভাবে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। আমি যদি দেখতাম না যে নবী (ﷺ) তোমাকে চুম্বন করেছেন, তাহলে আমিও তোমাকে চুম্বন করতাম না।” এরপর তিনি চুম্বন করলেন।পরে বললেন, “আমাদের রামল করার উদ্দেশ্য কী ছিল? আমরা তো রামল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন।” এরপর বললেন, “যেহেতু এই (রামল) কাজটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না।”
(১৫৯৭) (আঃপ্রঃ ১৫০১, ইঃফাঃ ১৫০৭)
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর কথা হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে খুব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, হাজরে আসওয়াদ একটি পাথর; এটি নিজে কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পারে না। এরপর তিনি বলেন, যদি তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে এটি চুম্বন করতে না দেখতেন, তবে তিনি নিজেও চুম্বন করতেন না। এতে বোঝা যায়, এই আমলের ভিত্তি পাথরের প্রতি কোনো আলাদা ক্ষমতার বিশ্বাস নয়; বরং নবী صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণ। একই হাদিসে রামলের বিষয়েও তিনি বলেন, মুশরিকদের সামনে শক্তি দেখানোর কারণ শেষ হয়ে গেলেও, নবী صلى الله عليه وسلم যেহেতু কাজটি করেছেন, তাই তাঁরা তা ছাড়তে পছন্দ করেন না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাজরে আসওয়াদ নিজে কল্যাণ বা অকল্যাণ করে না।
- চুম্বনের মূল কারণ নবী صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণ।
- রামলও নবী صلى الله عليه وسلم-এর করা আমল হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।
- সুন্নাহ মানার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যুক্তির আগে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
