২৪/৫৪. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাঞ্ছা করে না- (আল-বাকারাঃ ২৭৩), আর ধনী হওয়ার পরিমাণ কত?
وَقَوْلِ النَّبِيُّ ﷺ وَلَا يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴿لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ﴾ إِلَى قَوْلِهِ ﴿فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴾নবী (ﷺ)-এর বাণী: “এবং এতটুকু পরিমাণ সম্পদ তার কাছে নেই, যা তাকে অভাবমুক্ত করতে পারবে।” (আল্লাহ বলেন) এ ব্যয় ঐ সব অভাবগ্রস্ত লোকদের জন্য যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত হয়ে পড়েছে যে, তারা জীবিকার সন্ধানে যমীনে ঘোরাফেরা করতে পারে না। ভিক্ষা না করার দরুন অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত বলে মনে করে। তাদের লক্ষণ দেখলেই তুমি তাদের চিনতে পারবে। কাকুতি-মিনতি করে তারা মানুষের কাছে ভিক্ষা চায় না। আর যে সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত। (আল-বাকারা: ২৭৩)"
নিজে উপার্জন করে খাওয়া ও সদকা: ভিক্ষার চেয়ে উত্তম পথ
সহীহ বুখারী : ১৪৮০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪৮০
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ، ثُمَّ يَغْدُوَ ـ أَحْسِبُهُ قَالَ ـ إِلَى الْجَبَلِ فَيَحْتَطِبَ، فَيَبِيعَ فَيَأْكُلَ وَيَتَصَدَّقَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ ". قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ أَكْبَرُ مِنَ الزُّهْرِيِّ، وَهُوَ قَدْ أَدْرَكَ ابْنَ عُمَرَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি রশি নিয়ে সকাল বেলা বের হয়, (রাবী বলেন) আমার ধারণা যে, তিনি বলছেন, পাহাড়ের দিকে, অতঃপর লাকড়ি সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং দানও করে, তা তার পক্ষে লোকের কাছে যাচনা করার চেয়ে উত্তম।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেউ যদি রশি নিয়ে সকালবেলা বের হয়, পাহাড়ে গিয়ে লাকড়ি সংগ্রহ করে, তা বিক্রি করে খায় এবং সদকাও করে—এটি মানুষের কাছে চাওয়ার চেয়ে উত্তম। এখানে শুধু উপার্জনের কথা নয়, বরং উপার্জনের পর সদকার কথাও এসেছে। অর্থাৎ নিজের প্রয়োজন পূরণের সঙ্গে অন্যের উপকার করার মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। কাজটি সাধারণ হলেও এতে আত্মসম্মান, পরিশ্রম, হালাল জীবিকা এবং দানের শিক্ষা আছে। মানুষের কাছে হাত পাতার বদলে সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করা এবং সেই উপার্জন থেকে দান করা—এই হাদিসের মূল বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজে কাজ করে জীবিকা নেওয়া মানুষের কাছে চাওয়ার চেয়ে উত্তম।
- উপার্জনের পর সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা করা প্রশংসনীয়।
- সাধারণ শ্রমও হালাল জীবিকার পথ হতে পারে।
- আত্মনির্ভরতা ও দানশীলতা একসঙ্গে থাকা সুন্দর গুণ।
