২৪/১৯. অধ্যায়ঃ
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকা ব্যতীত সদকা নেই।
وَمَنْ تَصَدَّقَ وَهُوَ مُحْتَاجٌ أَوْ أَهْلُهُ مُحْتَاجٌ أَوْ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَالدَّيْنُ أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَالْعِتْقِ وَالْهِبَةِ وَهُوَ رَدٌّ عَلَيْهِ لَيْسَ لَهُ أَنْ يُتْلِفَ أَمْوَالَ النَّاسِ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ إِتْلَافَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَعْرُوفًا بِالصَّبْرِ فَيُؤْثِرَ عَلَى نَفْسِهِ وَلَوْ كَانَ بِهِ خَصَاصَةٌ كَفِعْلِ أَبِي بَكْرٍ ؓ حِينَ تَصَدَّقَ بِمَالِهِ وَكَذَلِكَ آثَرَ الْأَنْصَارُ الْمُهَاجِرِينَ وَنَهَى النَّبِيُّ ﷺ عَنْ إِضَاعَةِ الْمَالِ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يُضَيِّعَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِعِلَّةِ الصَّدَقَةِ وَقَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ ؓ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي صَدَقَةً إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ ﷺ قَالَ أَمْسِكْ عَلَيْكَ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ قُلْتُ فَإِنِّي أُمْسِكُ سَهْمِي الَّذِي بِخَيْبَرَযে ব্যক্তি সদাকা করতে চায়; অথচ সে নিজেই দরিদ্র বা তার পরিবার-পরিজন অভাবগ্রস্ত অথবা সে ঋণগ্রস্ত, এ অবস্থায় তার জন্য সদাকা করা, গোলাম আযাদ করা ও দান করার চেয়ে ঋণ পরিশোধ করা অধিক কর্তব্য। বরং তা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির নিকট প্রত্যাবর্তনশীল লোকের সম্পদ বিনষ্ট করার অধিকার তার নেই। নবী (ﷺ) বলেন: যে ব্যক্তি বিনষ্ট করার ইচ্ছায় লোকের সম্পদ হস্তগত করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দিবেন। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন,] তবে এ ধরনের ব্যক্তি যদি ধৈর্যশীল বলে পরিচিত হয়, তথা নিজের দারিদ্র্য উপেক্ষা করে অন্যকে নিজের উপর প্রাধান্য দেয়, তাহলে সে সদাকা করতে পারে। যেমন আবূ বকর (রা.)-এর (অমর) কীর্তি, তিনি সমুদয় সম্পদ সদাকা করে দিয়েছিলেন। তেমনিভাবে আনসারী সাহাবীগণ মুহাজির সাহাবীদেরকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। নবী (ﷺ) সম্পদ বিনষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। কাজেই (ঋণ পরিশোধ না করে) সদাকা করার বাহানায় অন্যের সম্পদ বিনষ্ট করার কোনো অধিকার কারো নেই। কা‘ব ইবন মালিক (রা.) বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার সম্পূর্ণ সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশে সদাকা করতে চাই আমি আমার তাওবার অংশ হিসাবে। তিনি বললেন: তোমার কিছু মাল নিজের জন্য রেখে দিবে। আর এটাই তোমার জন্য শ্রেয়। আমি বললাম, আমি খায়বারে প্রাপ্ত অংশটুকু রেখে দিবো।"
উত্তম সদকা কোনটি: আগে পরিবারের দায়িত্ব, তারপর দান
সহীহ বুখারী : ১৪২৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪২৬
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিতঃ
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ হতে সদকা করা উত্তম। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে, প্রথমে তাদেরকে দেবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে সদকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা আছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সদকা করা উত্তম। এরপর বলেছেন, যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে, প্রথমে তাদেরকে দেবে। অর্থাৎ সদকা করতে গিয়ে নিজের দায়িত্বে থাকা পরিবার বা নির্ভরশীলদের অবহেলা করা ঠিক নয়। ইসলাম এখানে দানশীলতা শেখায়, আবার দায়িত্বও শেখায়। কেউ যদি নিজের প্রয়োজন ও পরিবারের প্রয়োজন বাদ দিয়ে শুধু বাহ্যিক দান দেখাতে চায়, তা হাদিসের এই নির্দেশের সঙ্গে মেলে না। উত্তম সদকা হলো এমন দান, যা সামর্থ্য বিবেচনা করে করা হয় এবং যার ফলে নিজের দায়িত্বে থাকা মানুষের হক নষ্ট হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সদকা সামর্থ্য অনুযায়ী করা উচিত।
- পরিবার ও নির্ভরশীলদের হক আগে আদায় করতে হবে।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে দান করা উত্তম।
- দানশীলতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ থাকা দরকার।
