২৪/১১. অধ্যায়ঃ
কোন প্রকারের সদকা (দান-খয়রাত) উত্তম; সুস্থ, কৃপণ কর্তৃক সদকা প্রদান।
لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى : وَأَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ إِلَى الظَّالِمُونَ إِلَى آخِرِهِআল্লাহর বাণী: “আর তোমরা তা হতে ব্যয় করবে যা আমি তোমাদেরকে রিযক হিসেবে দিয়েছি তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে।” (আল-মুনাফিকূন: ১০)তাঁর আরো বাণী: হে মুমিনগণ! আমি যা তোমাদেরকে রিযক হিসেবে দিয়েছি তা হতে তোমরা ব্যয় কর সে দিন আসার পূর্বে যে দিন ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধুত্ব এবং সুপারিশ থাকবে না। (আল-বাকারা: ২৫৪)"
সুস্থ অবস্থায় সদকা করার ফজিলত
সহীহ বুখারী : ১৪১৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪১৯
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ أَجْرًا قَالَ " أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ، تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَأْمُلُ الْغِنَى، وَلاَ تُمْهِلُ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ قُلْتَ لِفُلاَنٍ كَذَا، وَلِفُلاَنٍ كَذَا، وَقَدْ كَانَ لِفُلاَنٍ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক সাহাবী আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন সদকার সওয়াব বেশি পাওয়া যায়?তিনি (ﷺ) বললেনঃ সুস্থ ও কৃপণ অবস্থায় তোমার সদকা করা যখন তুমি দারিদ্র্যের আশঙ্কা করবে ও ধনী হওয়ার আশা রাখবে। সদকা করতে এ পর্যন্ত দেরি করবে না, যখন প্রাণবায়ু কণ্ঠাগত হবে, আর তুমি বলতে থাকবে, অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু, অথচ তা অমুকের জন্য হয়ে গেছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক সাহাবী নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, কোন সদকার সওয়াব বেশি। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যখন তুমি সুস্থ, সম্পদের প্রতি টান আছে, দারিদ্র্যের ভয় করছ এবং ধনী হওয়ার আশা রাখছ—সেই অবস্থায় সদকা করা। তিনি আরও বলেন, সদকা করতে এমন দেরি করো না যে প্রাণ কণ্ঠাগত হলে বলতে থাকো, অমুকের জন্য এত, অমুকের জন্য এত; অথচ তখন তা অন্যের হয়ে গেছে। এই হাদিস সময়মতো দান করার শিক্ষা দেয়। জীবনের শক্তি, ইচ্ছা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ থাকা অবস্থায় দান করা বেশি মূল্যবান। শুধু শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের উপর ভরসা করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সুস্থ অবস্থায় সদকা করা বেশি মূল্যবান কাজ।
- সম্পদের প্রতি টান থাকলেও দান করা বড় পরীক্ষা।
- দান করার জন্য মৃত্যুর শেষ সময় পর্যন্ত দেরি করা উচিত নয়।
- জীবিত অবস্থায় নিজের সম্পদ ভালো কাজে ব্যবহার করা দরকার।
