২৩/৮২. অধ্যায়ঃ
কবরের পাশে কোন মুহাদ্দিসের নসীহত পেশ করা আর তার সহচরদের তার আশে পাশে বসা।
يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ الْأَجْدَاثُ الْقُبُورُ بِعْثِرَتْ أُثِيرَتْ بَعْثَرْتُ حَوْضِي أَيْ جَعَلْتُ أَسْفَلَهُ أَعْلَاهُ الْإِيفَاضُ الْإِسْرَاعُ وَقَرَأَ الْأَعْمَشُ إِلَى نُصُبٍ إِلَى شَيْءٍ مَنْصُوبٍ يَسْتَبِقُونَ إِلَيْهِ وَالنُّصُبُ وَاحِدٌ وَالنُّصْبُ مَصْدَرٌ يَوْمُ الْخُرُوجِ مِنَ الْقُبُورِ يَنْسِلُونَ يَخْرُجُونَ(মহান আল্লাহর বাণী) يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ তারা কবর হতে বের হবে- (মা‘আরিজ: ৪৩)। الْأَجْدَاثُ অর্থ কবরসমূহ। (এবং সূরা ইনফিতারে) بُعْثِرَتْ অর্থ উন্মোচিত হবে بَعْثَرْتُ حَوْضِي অর্থাৎ আমি (হাওযের) নিচের অংশকে উপরে তুলে দিয়েছি। الْإِيفَاضُ অর্থ দ্রুত গতিতে চলা। ‘আমাশ (রহ.)-এর কিরাআত হলো এর অর্থ إِلَى نُصُبٍ হলো তারা স্থাপিত কোনো বস্তুর দিকে দ্রুত গতিতে চলে। আর النُّصُبُ একবচন আর النُّصْبُ মাসদার- ক্রিয়া মূল। (সূরা কাফ এর ৪২ আয়াতে) يَوْمُ الْخُرُوجِ বেরিয়ে আসার দিন। অর্থাৎ কবর হতে। আর সূরা আম্বিয়ার ৯৬ আয়াতে يَنْسِلُونَ অর্থ ‘বের হয়ে ছুটে আসবে।’"
তাকদীর ও আমল: ভাগ্যের উপর ভরসা করেও কাজ ছাড়ার সুযোগ নেই
সহীহ বুখারী : ১৩৬২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৬২
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا فِي جَنَازَةٍ فِي بَقِيعِ الْغَرْقَدِ، فَأَتَانَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَعَدَ وَقَعَدْنَا حَوْلَهُ، وَمَعَهُ مِخْصَرَةٌ فَنَكَّسَ، فَجَعَلَ يَنْكُتُ بِمِخْصَرَتِهِ ثُمَّ قَالَ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ، مَا مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ إِلاَّ كُتِبَ مَكَانُهَا مِنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَإِلاَّ قَدْ كُتِبَ شَقِيَّةً أَوْ سَعِيدَةً ". فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلاَ نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا وَنَدَعُ الْعَمَلَ، فَمَنْ كَانَ مِنَّا مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَسَيَصِيرُ إِلَى عَمَلِ أَهْلِ السَّعَادَةِ، وَأَمَّا مَنْ كَانَ مِنَّا مِنْ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ فَسَيَصِيرُ إِلَى عَمَلِ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ قَالَ " أَمَّا أَهْلُ السَّعَادَةِ فَيُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ السَّعَادَةِ، وَأَمَّا أَهْلُ الشَّقَاوَةِ فَيُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ الشَّقَاوَةِ "، ثُمَّ قَرَأَ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى} الآيَةَ.
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বাকী‘উল গারকাদ (কবরস্থানে) এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আগমন করলেন। তিনি উপবেশন করলে আমরাও তাঁর চারদিকে বসে পড়লাম। তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল। তিনি নীচের দিকে তাকিয়ে তাঁর ছড়িটি দ্বারা মাটি খুঁড়তে লাগলেন। অতঃপর বললেন: তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, অথবা বললেন: এমন কোন সৃষ্ট প্রাণী নেই, যার জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে জায়গা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়নি আর এ কথা লিখে দেওয়া হয়নি যে, সে দুর্ভাগা হবে কিংবা ভাগ্যবান। তখন এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! তা হলে কি আমরা আমাদের ভাগ্যলিপির উপর ভরসা করে আমল করা ছেড়ে দিব না? কেননা, আমাদের মধ্যে যারা ভাগ্যবান তারা অচিরেই ভাগ্যবানদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। আর যারা দুর্ভাগা তারা অচিরেই দুর্ভাগাদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। তিনি বললেন: যারা ভাগ্যবান, তাদের জন্য সৌভাগ্যের আমল সহজ করে দেওয়া হয় আর ভাগ্যাহতদের জন্য দুর্ভাগ্যের আমল সহজ করে দেওয়া হয়। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন: ’’কাজেই যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে আর ভাল কথাকে সত্য বলে বুঝেছে” - (সূরা আল-লাইল: ৫)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় তাকদীর ও আমল। জানাযার সময় নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের জানান, প্রত্যেক মানুষের জান্নাত বা জাহান্নামের স্থান এবং সে সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগা—সব লেখা আছে। তখন একজন প্রশ্ন করলেন, তাহলে কি আমরা আমল ছেড়ে দিয়ে ভাগ্যলিপির উপর ভরসা করব? নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন, বিষয়টি এমন নয়। যারা সৌভাগ্যের পথে, তাদের জন্য সৌভাগ্যের আমল সহজ করা হয়। আর যারা দুর্ভাগ্যের পথে, তাদের জন্য দুর্ভাগ্যের আমল সহজ হয়ে যায়। তাই তাকদীরের বিশ্বাস মানুষকে অলস করে না; বরং আল্লাহর দিকে ফিরে নেক আমল করার আগ্রহ বাড়ায়। হাদিসটি শেখায়, বান্দা নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যাবে না। দান, তাকওয়া ও সত্য গ্রহণ—এসব নেক কাজের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীরে বিশ্বাস আমল ছেড়ে দেওয়ার অজুহাত নয়।
- নেক আমল করার চেষ্টা সৌভাগ্যের পথে চলার লক্ষণ হতে পারে।
- জান্নাত ও জাহান্নামের কথা মনে রাখা মানুষকে দায়িত্বশীল করে।
- দান, তাকওয়া ও সত্য গ্রহণ—এসব কাজের দিকে এগোনো দরকার।
