২৩/৭৯. অধ্যায়ঃ
কোন বালক ইসলাম গ্রহণ করে মারা গেলে তার জন্য (জানাজার) সালাত আদায় করা যাবে কি? বালকের নিকট ইসলামের দাওয়াত দেয়া যাবে কি?
وَقَالَ الْحَسَنُ وَشُرَيْحٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَقَتَادَةُ إِذَا أَسْلَمَ أَحَدُهُمَا فَالْوَلَدُ مَعَ الْمُسْلِمِ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَعَ أُمِّهِ مِنَ الْمُسْتَضْعَفِينَ وَلَمْ يَكُنْ مَعَ أَبِيهِ عَلَى دِينِ قَوْمِهِ وَقَالَ الْإِسْلَامُ يَعْلُو وَلَا يُعْلَىহাসান, শুরাইহ, ইবরাহীম ও কাতাদা (রহ.) বলেছেন, পিতা-মাতার কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে সন্তান মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে থাকবে। ইবন ‘আব্বাস (রা.) তাঁর মায়ের সাথে ‘মুস্তায‘আফীন’ (দুর্বল ও নির্যাতিত জামা‘আত)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাঁকে তাঁর পিতা (আব্বাস)-এর সাথে ‘তার কওমের (মুশরিকদের) ধর্মে গণ্য করা হত না। নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: ইসলাম বিজয়ী হয়, বিজিত হয় না।"
নবজাতকের ফিতরাত: শিশু, জানাজা ও পিতামাতার প্রভাব
সহিহ বুখারী : ১৩৫৮
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৫৮
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ يُصَلَّى عَلَى كُلِّ مَوْلُودٍ مُتَوَفًّى وَإِنْ كَانَ لِغَيَّةٍ، مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ وُلِدَ عَلَى فِطْرَةِ الإِسْلاَمِ، يَدَّعِي أَبَوَاهُ الإِسْلاَمَ أَوْ أَبُوهُ خَاصَّةً، وَإِنْ كَانَتْ أُمُّهُ عَلَى غَيْرِ الإِسْلاَمِ، إِذَا اسْتَهَلَّ صَارِخًا صُلِّيَ عَلَيْهِ، وَلاَ يُصَلَّى عَلَى مَنْ لاَ يَسْتَهِلُّ مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ سِقْطٌ، فَإِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ كَانَ يُحَدِّثُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلاَّ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ، كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ ". ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه – {فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا} الآيَةَ.
শুআইব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেছেন, নবজাত শিশু মারা গেলে তাঁদের প্রত্যেকের জানাযার সালাত আদায় করা হবে। যদিও সে কোন ভ্রষ্টা মায়ের সন্তানও হয়। এ কারণে যে, সে সন্তানটি ইসলামী ফিতরাতের (তাওহীদ) উপর জন্মলাভ করেছে। তার পিতামাতা ইসলামের দাবীদার হোক বা বিশেষভাবে তার পিতা। যদিও তার মা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের অনুসারী হয়। নবজাত শিশু সরবে কেঁদে থাকলে তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে। আর যে শিশু না কাঁদবে, তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে না। কেননা, সে অপূর্ণাঙ্গ সন্তান। কারণ, আবু হুরাইরা (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের (তাওহীদের) উপর। অতঃপর তার মা-বাপ তাকে ইয়াহুদি বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুঁত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কান কাটা দেখতে পাও? (বরং মানুষরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাতে ভূমিষ্ঠ সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবু হুরাইরা (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ فِطْرَتَ اللهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا) "আল্লাহর দেয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন -" (সূরা রূমঃ ৩০)।
সহিহ বুখারী হাদিস ১৩৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবজাতক শিশুর ফিতরাত, জানাজার একটি আলোচনা এবং পিতামাতার প্রভাব একসাথে এসেছে। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, নবজাতক মারা গেলে তার জানাজার সালাত আদায় করা হবে, যদি সে জন্মের পর কান্না করে থাকে। আর যে শিশু কান্না করেনি, তার জানাজার কথা বলা হয়নি, কারণ তাকে অপূর্ণাঙ্গ সন্তান হিসেবে ধরা হয়েছে। এরপর আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, প্রতিটি নবজাতক ফিতরাতের উপর জন্মায়। পরে তার মা-বাবা তাকে ইয়াহুদি, খ্রিস্টান বা মাজুসী রূপে গড়ে তোলে। পশুর নিখুঁত বাচ্চার উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে, জন্মগত স্বাভাবিকতা পরে মানুষের প্রভাবে বদলে যেতে পারে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো শিশুর ফিতরাতের সম্মান এবং অভিভাবকের দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিটি নবজাতক ফিতরাতের উপর জন্মায়—এ কথা হাদিসে স্পষ্ট।
- জন্মের পর কান্না করলে শিশুর জানাজার প্রসঙ্গ এসেছে।
- পিতামাতার শিক্ষা ও পরিবেশ শিশুর ধর্মীয় পথে প্রভাব ফেলে।
- ফিতরাতের কথা বুঝতে কুরআনের আয়াতও উল্লেখ করা হয়েছে।
