২৩/৪৫. অধ্যায়ঃ
(সরবে) কাঁদা ও বিলাপ নিষিদ্ধ হওয়া এবং তাতে বাধা প্রদান করা।
বিলাপ নয়, সংযম: শোকের সময় নবীজির নির্দেশ
সহীহ বুখারী : ১৩০৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩০৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَخْبَرَتْنِي عَمْرَةُ، قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ تَقُولُ لَمَّا جَاءَ قَتْلُ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ وَجَعْفَرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ، جَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْرَفُ فِيهِ الْحُزْنُ، وَأَنَا أَطَّلِعُ مِنْ شَقِّ الْبَابِ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ نِسَاءَ جَعْفَرٍ وَذَكَرَ بُكَاءَهُنَّ فَأَمَرَهُ بِأَنْ يَنْهَاهُنَّ، فَذَهَبَ الرَّجُلُ ثُمَّ أَتَى فَقَالَ قَدْ نَهَيْتُهُنَّ، وَذَكَرَ أَنَّهُنَّ لَمْ يُطِعْنَهُ، فَأَمَرَهُ الثَّانِيَةَ أَنْ يَنْهَاهُنَّ، فَذَهَبَ، ثُمَّ أَتَى، فَقَالَ وَاللَّهِ لَقَدْ غَلَبْنَنِي أَوْ غَلَبْنَنَا الشَّكُّ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَوْشَبٍ ـ فَزَعَمَتْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَاحْثُ فِي أَفْوَاهِهِنَّ التُّرَابَ ". فَقُلْتُ أَرْغَمَ اللَّهُ أَنْفَكَ، فَوَاللَّهِ مَا أَنْتَ بِفَاعِلٍ وَمَا تَرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْعَنَاءِ.
‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(মুতার যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) যায়দ ইবন হারিসা, জা’ফর এবং আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছলে নবী (ﷺ) বসে পড়লেন; তাঁর মধ্যে শোকের আলামত প্রকাশ পেল। আমি [আয়েশা (রাঃ)] দরজার ফাঁক দিয়ে ঝুঁকে তা দেখছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে সম্বোধন করেন, হে আল্লাহর রসূল! জা’ফর (রাঃ)-এর (পরিবারের) মহিলাগণ কান্নাকাটি করছে। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য তাকে আদেশ করলেন। সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। পরে এসে বললেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তারা তাকে মানেনি। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য দ্বিতীয়বার তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চলে গেলেন এবং আবার এসে বললেন, আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা আমাকে (বা বলেছেন আমাদেরকে) হার মানিয়েছে।আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বললেন, তা হলে তাদের মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো। [আয়েশা (রাঃ) বলেন] আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাকে ধূলি মিশ্রিত করুন। আল্লাহর কসম! তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা করতে পারছ না আর আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে বিরক্ত করতেও ছাড়ছ না।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শোকের সময় সীমা রক্ষা করার শিক্ষা এসেছে। যায়দ ইবন হারিসা, জাফর ও আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর আসার পর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মধ্যে শোকের চিহ্ন দেখা যায়। অর্থাৎ দুঃখ অনুভব করা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন জানানো হলো যে জাফর (রাঃ)-এর পরিবারের নারীরা কান্নাকাটি করছেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের নিষেধ করতে বললেন। লোকটি বারবার গিয়ে জানাল যে তারা মানছে না। হাদিসে দেখা যায়, শোক থাকলেও বিলাপ বা সীমা ছাড়ানো আচরণ বন্ধ করা দরকার। এখানে মূল বিষয় হলো কান্নার অনুভূতি নয়; বরং এমন কান্নাকাটি থেকে বাঁচা, যা নিয়ন্ত্রণহীন হয় এবং অন্যদের কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রিয়জনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ স্বাভাবিক, তবে সীমা রক্ষা করতে হয়।
- বিলাপ বন্ধ করার জন্য ভালোভাবে নসিহত করা দরকার।
- শোকের সময় অন্যকে কষ্ট দেওয়া বা বিরক্ত করা উচিত নয়।
- কঠিন সংবাদেও নবীজির আচরণে সংযমের শিক্ষা আছে।
