২৩/৪০. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি বিপদের সময় এমন ভাবে বসে পড়ে যে, তার মধ্যে দুঃখবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
কুনুত নাযিলা: ক্বারি সাহাবীদের শাহাদাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শোক
সহীহ বুখারী : ১৩০০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩০০
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا حِينَ قُتِلَ الْقُرَّاءُ، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَزِنَ حُزْنًا قَطُّ أَشَدَّ مِنْهُ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(বীর-ই মাউনার ঘটনায়) ক্বারি (সাহাবীদের) শাহাদাতের পর আল্লাহর রসূল (ﷺ) (ফজরের সালাতে) এক মাস যাবত কুনুত-ই নাযিলা [২] পাঠ করেছিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে আমি আর কখনো এর চেয়ে অধিক শোকাভিভূত হতে দেখিনি।
[২] কুনূত-ই-নাযিলাঃ মুসলমানদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় সার্বিক বিপদকালে ফজরের সালাতে দ্বিতীয় রাকা’আতের রুকূ’র পর দাঁড়িয়ে ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে বিশেষ দু’আ পড়েন, (মুক্তাদীগণ আমীন, আমীন, বলতে থাকেন) এ দু’আকে কুনূত-ই-নাযিলা বলা হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বীর-ই মাউনার ঘটনায় ক্বারি সাহাবীদের শাহাদাতের পর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শোকের কথা এসেছে। আনাস (রাঃ) বলেন, ক্বারিদের শাহাদাতের পর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এক মাস কুনুত নাযিলা পাঠ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে এর চেয়ে বেশি শোকাভিভূত কখনো দেখেননি। এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট: প্রথমত, সাহাবীদের মৃত্যু নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। দ্বিতীয়ত, এই শোক শুধু আবেগে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি সালাতে কুনুত নাযিলা পড়েছিলেন। এই হাদিস কুনুত নাযিলা, মুসিবতে দোয়া এবং উম্মতের জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর গভীর মমতা বোঝায়। তবে হাদিসে যতটুকু এসেছে, ব্যাখ্যাও ততটুকুতেই রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্বারি সাহাবীদের শাহাদাত নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে গভীরভাবে শোকাহত করেছিল।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) এক মাস কুনুত নাযিলা পাঠ করেছিলেন।
- বড় মুসিবতে দোয়া ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার শিক্ষা আছে।
- শোককে ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা যেতে পারে।
