২৩/৩২. অধ্যায়ঃ
নবী (ﷺ)-এর বাণী: পরিবার-পরিজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়, যদি বিলাপ করা তার অভ্যাস হয়ে থাকে।
لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴿قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا﴾ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ سُنَّتِهِ فَهُوَ كَمَا قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ﴿لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى﴾ وَهُوَ كَقَوْلِهِ ﴿وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ﴾ ذُنُوبًا ﴿إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ﴾ وَمَا يُرَخَّصُ مِنَ الْبُكَاءِ فِي غَيْرِ نَوْحٍ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا وَذَلِكَ لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَকারণ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: (যার অর্থ) “তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” (তাহরীম: ৬)। এবং নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কিন্তু তা যদি তার অভ্যাস না হয়ে থাকে তবে তার বিধান হবে যা ‘আয়িশা (রা.) ব্যক্ত করেছেন: (যার অর্থ) “নিজ বোঝা বহনকারী কোনো ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না” (আল-আন‘আম: ১৬৪)। আর এ হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ন্যায় “কোনো (গুনাহের) বোঝা বহনকারী ব্যক্তি যদি কাউকেও তা বহন করার আহ্বান জানায় তবে তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না” (ফাতির: ১৮)। আর বিলাপ ব্যতীত ক্রন্দনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। নবী (ﷺ) বলেছেন: অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হলে সে হত্যার অপরাধের অংশ প্রথম আদম সন্তান (কাবিল) এর উপর বর্তাবে। আর সেটা এ কারণে যে, সেই প্রথম ব্যক্তি যে হত্যার প্রবর্তন করেছে।"
বিপদে ধৈর্য ও দয়া: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সান্ত্বনার হাদিস
সহিহ বুখারী : ১২৮৪
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৮৪
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، وَمُحَمَّدٌ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ أَرْسَلَتِ ابْنَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِ إِنَّ ابْنًا لِي قُبِضَ فَائْتِنَا. فَأَرْسَلَ يُقْرِئُ السَّلاَمَ وَيَقُولُ " إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى وَكُلٌّ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى، فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ ". فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ لَيَأْتِيَنَّهَا، فَقَامَ وَمَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَرِجَالٌ، فَرُفِعَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّبِيُّ وَنَفْسُهُ تَتَقَعْقَعُ ـ قَالَ حَسِبْتُهُ أَنَّهُ قَالَ ـ كَأَنَّهَا شَنٌّ. فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ. فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذَا فَقَالَ " هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللَّهُ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ، وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ ".
উসামাহ ইব্নু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর জনৈকা কন্যা (জয়নাব) তাঁর (ﷺ) নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাঁকে) সালাম দিবে এবং বলবেঃ আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের অপেক্ষায় থাকে।তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আগমন করেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সাদ ইবন উবাদা, মুআজ ইবন জাবাল, উবাই ইবন কাব, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তুলে দেয়া হল। তখন সে ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা ধারণা যে, তিনি এ কথা বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (শব্দ হচ্ছিল)। আর নবী (ﷺ)-এর দুই চক্ষু বেয়ে অশ্রু ঝরছিল।সাদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ তাঁর বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন। আর আল্লাহ তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।
সহিহ বুখারী হাদিস ১২৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মৃত্যু সংবাদ, ধৈর্য এবং দয়ার শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কন্যা তাঁর অসুস্থ সন্তানের জন্য তাঁকে ডাকলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে সালাম পাঠিয়ে বললেন, আল্লাহ যা নেন তা তাঁরই, আর যা দেন তাও তাঁরই; প্রত্যেক কিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। তাই ধৈর্য ধরতে হবে এবং সওয়াবের আশা রাখতে হবে। পরে তিনি গেলেন। শিশুটিকে তাঁর কাছে আনা হলে তার কঠিন অবস্থা দেখে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর চোখে অশ্রু এল। সাদ (রাঃ) প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এটি রহমত, যা আল্লাহ বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। এই হাদিস দেখায়, কান্না সবসময় নিষিদ্ধ নয়; দয়ার অশ্রু এবং অধৈর্য বিলাপ এক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবন-মৃত্যু আল্লাহর অধীনে, সব কিছুর নির্দিষ্ট সময় আছে।
- বিপদে ধৈর্য ধরা এবং সওয়াবের আশা রাখা উচিত।
- দয়ার কারণে চোখে অশ্রু আসা স্বাভাবিক।
- আল্লাহ দয়ালু বান্দাদের প্রতি দয়া করেন।
