২১/১৫. অধ্যায়ঃ
সালাতে সালামের উত্তর দিবে না।
সালাতে সালামের জবাব: ‘সালাতে আছে নিমগ্নতা’ হাদিসের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১২১৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২১৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنْتُ أُسَلِّمُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَيَرُدُّ عَلَىَّ، فَلَمَّا رَجَعْنَا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ وَقَالَ " إِنَّ فِي الصَّلاَةِ شُغْلاً ".
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-কে তাঁর সালাতে সালাম করতাম। তিনি আমাকে সালামের জবাব দিতেন। আমরা (আবিসিনিয়া হতে) ফিরে এসে তাঁকে (সালাতে) সালাম করলাম। তিনি জবাব দিলেন না এবং পরে বললেনঃ সালাতে আছে নিমগ্নতা।
সহীহ বুখারী হাদিস ১২১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তিনি আগে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে সালাতে সালাম করতেন এবং নবী (صلى الله عليه وسلم) জবাব দিতেন। পরে তাঁরা আবিসিনিয়া থেকে ফিরে এসে আবার সালামে সালাম করলেন, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) জবাব দিলেন না। এরপর তিনি বললেন, সালাতে আছে নিমগ্নতা। এই ছোট বাক্যে নামাজের মনোযোগ ও ব্যস্ততার বড় শিক্ষা আছে। সালাতের সময় মানুষের মূল কাজ আল্লাহর দিকে থাকা। তাই সালামে জবাব দেওয়ার মতো ভালো কাজও সেই অবস্থায় সরাসরি করা হয়নি। হাদিসটি নামাজে কথা বলা, সালামে জবাব এবং সালাতে মনোযোগ বিষয়ে খুব সরাসরি দিক দেখায়। ব্যাখ্যায় আমরা শুধু এতটুকু বলতে পারি, সালাত এমন সময় যেখানে আল্লাহর ইবাদতে ডুবে থাকা প্রধান বিষয়। এতে মুসল্লি বুঝতে পারে, সালাতের ভেতরে ছোট প্রয়োজন থাকলেও তা নিয়ম মেনে ও শান্তভাবে করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের মধ্যে বিশেষ নিমগ্নতা ও ব্যস্ততা আছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সালাত অবস্থায় সালামের জবাব দেননি।
- সালাতে মনোযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা আছে।
- ভালো কথা হলেও সালাতের নিজস্ব সীমা মানতে হয়।
