২১/১. অধ্যায়ঃ
সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজে সালাতের মধ্যে হাতের সাহায্য নেয়া।
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يَسْتَعِينُ الرَّجُلُ فِي صَلَاتِهِ بِمَا شَاءَ وَوَضَعَ أَبُو إِسْحَاقَ قَلَنْسُوَتَهُ فِي الصَّلَاةِ وَرَفَعَهَا وَوَضَعَ عَلِيٌّ ؓ كَفَّهُ عَلَى رُسْغِهِ الْأَيْسَرِ إِلَّا أَنْ يَحُكَّ جِلْدًا أَوْ يُصْلِحَ ثَوْبًا.ইবন ‘আব্বাস (রা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি তার সালাতের মধ্য শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা (সালাত সংশ্লিষ্ট কাজে) সাহায্য নিতে পারে। আবূ ইসহাক (রহ.) সালাত আদায়রত অবস্থায় তাঁর টুপী নামিয়ে রেখেছিলেন এবং তা তুলে মাথায় দিয়েছিলেন। ‘আলী (রা.) (সালাতে) সাধারণত তাঁর (ডান হাতের) পাঞ্জা বাম হাতের কব্জির উপরে রাখতেন, তবে কখনো শরীর চুলকাতে হলে বা কাপড় ঠিক করতে হলে করতেন।"
নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের সালাত: তাহাজ্জুদ, বিতর ও ফজরের দুই রাকাত
সহিহ বুখারী : ১১৯৮
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১১৯৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ ـ رضى الله عنها ـ وَهْىَ خَالَتُهُ ـ قَالَ فَاضْطَجَعْتُ عَلَى عَرْضِ الْوِسَادَةِ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ، فَمَسَحَ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ آيَاتٍ خَوَاتِيمَ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا، فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي، وَأَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا بِيَدِهِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ، فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তাঁর খালা মুমিনদের মা মাইমূনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটালেন। আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এবং তাঁর সহধর্মিণী বালিশের দৈর্ঘ্যে শয়ন করলেন।অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মধ্যরাত বা তার কিছু আগ বা পর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জেগে উঠে বসলেন এবং দুটি হাতে মুখমণ্ডল মুছে ঘুমের রেশ দূর করলেন। অতঃপর তিনি সূরা আল ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। পরে একটি ঝুলন্ত মশকের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং এর পানি দ্বারা উত্তমরূপে অজু করে সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন।আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে পড়লাম এবং তিনি যেমন করেছিলেন, আমিও তেমন করলাম। অতঃপর আমি গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপরে রেখে আমার ডান কানে মোচড়াতে লাগলেন (এবং আমাকে তাঁর পিছন হতে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন)। তিনি তখন দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দুই রাকাত, অতঃপর দুই রাকাত, অতঃপর দুই রাকাত, অতঃপর দুই রাকাত, অতঃপর দুই রাকাত, অতঃপর (দুই রাকাতের সাথে আর এক রাকাত দ্বারা বেজোড় করে) বিতর আদায় করে শুয়ে পড়লেন।শেষে (ফজরের জামাআতের জন্য) মুয়াজ্জিন এলেন। তিনি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত (কিরাতে) দুই রাকাত (ফজরের সুন্নাত) আদায় করলেন। অতঃপর বেরিয়ে গেলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন।
সহিহ বুখারী হাদিস ১১৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের ইবাদতের একটি সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি মাইমূনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটান এবং দেখেন, নবী صلى الله عليه وسلم রাতের মাঝামাঝি জেগে উঠলেন। তিনি মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের রেশ দূর করলেন, সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ভালোভাবে অজু করলেন এবং সালাতে দাঁড়ালেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) তাঁর মতোই অজু করে পাশে দাঁড়ালে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে নিজের পাশে ঠিক করে দেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم দুই রাকাত করে বারবার সালাত আদায় করেন, তারপর বিতর পড়েন। পরে মুয়াজ্জিন এলে তিনি সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত ফজরের সুন্নত পড়ে ফজরের সালাতে বের হন। হাদিসটি রাতের সালাতের বাস্তব রূপ শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم রাতের মাঝামাঝি জেগে সালাত আদায় করতেন।
- রাতের সালাতের আগে তিলাওয়াত ও সুন্দর অজুর কথা এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم দুই রাকাত করে সালাত আদায় করেন এবং শেষে বিতর পড়েন।
- ফজরের আগে সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের কথা এসেছে।
