১৮/১৩. অধ্যায়ঃ

সফর অবস্থায় মাগরিব ও ইশা সালাত জমা করা।

সফরে জমা সালাত: যুহর-আসর ও মাগরিব-ইশা একত্রে পড়ার বর্ণনা

সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১১০৭

وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنِ الْحُسَيْنِ الْمُعَلِّمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ صَلاَةِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ إِذَا كَانَ عَلَى ظَهْرِ سَيْرٍ، وَيَجْمَعُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

সফরে দ্রুত চলার সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুহর ও আসরের সালাত একত্রে আদায় করতেন আর মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন।

[১] অত্র হাদীস দ্বারা দু’ওয়াক্তের সালাত এক ওয়াক্তে একত্রিত করা চলে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে জমা করতেন এ সম্পর্কে মু’আয ইবনু জাবালের হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। তিনি বলেন, তাবূক যুদ্ধের সময় আল্লাহ্‌র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর শুরু করার পূর্বে সূর্য ঢলে যেত তখন তিনি (যুহরের ওয়াক্তেই) যুহর ও ‘আসর জমা করতেন এবং সূর্য ঢলার পূর্বে যদি তিনি রওয়ানা হতেন তাহলে যুহরকে দেরী করতেন এবং ‘আসরের সময় সাওয়ারী থেকে নেমে যুহর ও ‘আসর জমা করতেন। আর মাগরিবেও তিনি এরূপ করতেন। অর্থাৎ রওয়ানা হওয়ার পূর্বে যদি সূর্য ডুবে যেত তাহলে (মাগরিবের ওয়াক্তে) তিনি মাগরিব ও ‘ইশা জমা করতেন এবং সূর্য ডোববার পূর্বে যদি রওয়ানা হতেন তাহলে মাগরীবকে দেরী করতেন এবং ইশার সময়ে নেমে মাগরিব ও ‘ইশা জমা করতেন (আবূ দাউদ, তিরমিযী, মিশকাত ১১৮ পৃষ্ঠা)হানাফিগণ বলেন, সালাত জমা করতে হলে প্রথম ওয়াক্তকে দেরী করে শেষ ওয়াক্তে নিয়ে গিয়ে এবং দ্বিতীয় ওয়াক্তকে একটু আগে টেনে দু’ওয়াক্তের মাঝখানে জমা করতে হবে। অর্থাৎ যুহরের আওয়াল ওয়াক্তে ‘আসর জমা হবে না এবং ‘আসরের আউয়াল ওয়াক্তে যুহর জমা হবে না। বরং যুহরের শেষ ওয়াক্তে যুহর ও ‘আসরকে জমা করতে হবে। আল্লামা রহমানী বলেন, বুখারী; মুসলিম, আবূ দাউদ ও নাসায়ীর রিওয়াতকৃত আনাস, ইবনু ‘উমর ও জাবির কর্তৃক বর্ণিত সহীহ ও স্পষ্ট হাদীসগুলো হানাফিগণের উক্ত মতটিকে বাতিল বলে প্রমাণিত করে এবং এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, দু’ওয়াক্তের মধ্যে যে কোন এক ওয়াক্তে দু‘ওয়াক্তের সালাত জমা হতে পারে- (মিরআত ২/২৬৯)। ইমাম শাফি’ঈ, মালিক ও আহমাদের মতও তাই- (আওনুল মা’বূদ ১/৪৭২)।

সহিহ বুখারী হাদিস ১১০৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সফরে জমা সালাতের বিষয়টি একটু বিস্তৃতভাবে এসেছে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (صلى الله عليه وسلم) যখন সফরে দ্রুত চলার অবস্থায় থাকতেন, তখন যুহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন এবং মাগরিব ও ইশাও একত্রে আদায় করতেন। এখানে “দ্রুত চলার সময়” কথাটি গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি সফরের সালাত বুঝতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যারা “যুহর আসর একসাথে পড়া” বা “সফরে নামাজ জমা করা” জানতে চান। ব্যাখ্যায় মনে রাখতে হবে, হাদিসে নির্দিষ্ট অবস্থার কথা এসেছে। তাই সাধারণ সব পরিস্থিতির বিস্তারিত নিয়ম এখানে আলোচনা করা হয়নি। মূল শিক্ষা হলো, সফরের কষ্ট বা চলার অবস্থায় রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলে সালাত একত্রে আদায়ের বর্ণনা রয়েছে। এ কারণে জমা সালাতের আলোচনা করলে হাদিসে থাকা সফর ও চলার অবস্থার কথাও সাথে রাখা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দ্রুত সফরে যুহর ও আসর একত্রে আদায়ের বর্ণনা আছে।
  • একইভাবে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায়ের কথাও এসেছে।
  • হাদিসের শর্ত ও ভাষা ধরে বুঝলে ভুল মেশানোর আশঙ্কা কমে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন