১৫/২৭. অধ্যায়ঃ
ভূমিকম্প ও কেয়ামতের নিদর্শন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
কেয়ামতের আলামত: ইলম কমে যাওয়া, ফিতনা ও হত্যা বৃদ্ধি
সহিহ বুখারী : ১০৩৬
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৩৬
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ، وَتَكْثُرَ الزَّلاَزِلُ، وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ، وَتَظْهَرَ الْفِتَنُ، وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ ـ وَهْوَ الْقَتْلُ الْقَتْلُ ـ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضُ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামত কায়িম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। হারজ খুন-খারাবি। তোমাদের ধন-সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে।
সহিহ বুখারী হাদিস ১০৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কেয়ামতের আলামত। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। এর মধ্যে আছে ইলম উঠিয়ে নেওয়া, ভূমিকম্প বেশি হওয়া, সময় কাছাকাছি হয়ে আসা, ফিতনা প্রকাশ পাওয়া এবং হারজ বেড়ে যাওয়া। হাদিসেই বলা হয়েছে, হারজ মানে খুন-খারাবি। শেষে ধন-সম্পদ এত বাড়ার কথা এসেছে যে তা উপচে পড়বে। এই বর্ণনায় আমরা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক করার শিক্ষা পাই। তবে এর নির্দিষ্ট সময় বা কার ওপর কীভাবে ঘটবে—তা এই হাদিসে বলা হয়নি। তাই আমাদের কাজ হলো সতর্ক থাকা, ইলমকে মূল্য দেওয়া, ফিতনা থেকে বাঁচতে চাওয়া এবং সমাজে হত্যা-অশান্তিকে ভয় করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইলম উঠিয়ে নেওয়া কেয়ামতের আলামতের মধ্যে এসেছে।
- ভূমিকম্প বেশি হওয়ার কথা এই বর্ণনায় আছে।
- ফিতনা ও খুন-খারাবি বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
- সম্পদ বৃদ্ধি হলেও তা মানুষের জন্য পরীক্ষা হতে পারে।
