১৫/১১. অধ্যায়ঃ
বলা হয়েছে, জুমার দিবসে বৃষ্টির জন্য দোয়া করার সময় নবী (ﷺ) তাঁর চাদর উল্টাননি।
পরিবারের কষ্টে বৃষ্টির জন্য দোয়া: ইস্তিসকার হাদিস
সহীহ বুখারী : ১০১৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০১৮
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، شَكَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَلاَكَ الْمَالِ وَجَهْدَ الْعِيَالِ، فَدَعَا اللَّهَ يَسْتَسْقِي، وَلَمْ يَذْكُرْ أَنَّهُ حَوَّلَ رِدَاءَهُ وَلاَ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ.
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট সম্পদ বিনষ্ট হবার এবং পরিবার-পরিজনের দুঃখ কষ্টের অভিযোগ জানান। তখন তিনি আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন। বর্ণনাকারী এ কথা বলেননি, তিনি (আল্লাহর রসূল (ﷺ)) তাঁর চাদর উল্টিয়ে ছিলেন এবং এও বলেননি তিনি কেবলামুখী হয়েছিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১০১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে সম্পদ বিনষ্ট হওয়া এবং পরিবার-পরিজনের কষ্টের কথা জানান। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন। বর্ণনাকারী এখানে স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি চাদর উল্টিয়েছিলেন—এ কথা উল্লেখ করেননি; কিবলামুখী হয়েছিলেন—এ কথাও উল্লেখ করেননি। তাই এই হাদিসের ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার। এতে শুধু অভিযোগ, কষ্ট এবং বৃষ্টির জন্য দোয়ার কথা নিশ্চিতভাবে এসেছে। “বৃষ্টির জন্য দোয়া”, “পরিবারের কষ্টে দোয়া” এবং “ইস্তিসকার হাদিস” খোঁজার ক্ষেত্রে এটি সরাসরি সহায়ক। হাদিসটি আমাদের শেখায়, জীবিকা ও পরিবারের কষ্টের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের সঙ্গে মেলে। তাই এই বর্ণনা থেকে বুঝি, সব হাদিসে সব কাজের বিবরণ একভাবে আসে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক ব্যক্তি সম্পদ ও পরিবারের কষ্টের কথা জানিয়েছিল।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
- এই বর্ণনায় চাদর উল্টানো বা কিবলামুখী হওয়ার কথা বলা হয়নি।
- হাদিস বুঝতে বর্ণনায় যা নেই, তা নিশ্চিত করে বলা উচিত নয়।
