১৫/৯. অধ্যায়ঃ
বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য জুমার সালাতকে যথেষ্ট মনে করা।
অতিবৃষ্টি হলে কী দোয়া করবেন: সহিহ বুখারীর শিক্ষা
সহিহ বুখারী : ১০১৬
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০১৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَلَكَتِ الْمَوَاشِي وَتَقَطَّعَتِ السُّبُلُ. فَدَعَا، فَمُطِرْنَا مِنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ، ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ وَتَقَطَّعَتِ السُّبُلُ، وَهَلَكَتِ الْمَوَاشِي فَادْعُ اللَّهَ يُمْسِكْهَا. فَقَامَ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ وَالأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ ". فَانْجَابَتْ عَنِ الْمَدِينَةِ انْجِيَابَ الثَّوْبِ.
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, গৃহপালিত পশুগুলো মরে যাচ্ছে এবং রাস্তাগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি দোয়া করলেন। ফলে সে জুমা হতে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত আমাদের উপর বৃষ্টি হতে থাকল।অতঃপর সে ব্যক্তি আবার এসে বলল, (অতি বৃষ্টির ফলে) ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, রাস্তা অচল হয়ে যাচ্ছে এবং পশুগুলোও মরে যাচ্ছে। তখন আল্লাহর রসূল (ﷺ) দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! টিলা, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন। তখন মদীনা হতে মেঘ এমনভাবে কেটে গেল, যেমন কাপড় ছিঁড়ে ফাঁক হয়ে যায়।
সহিহ বুখারী হাদিস ১০১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রথমে অনাবৃষ্টির কষ্ট এবং পরে অতিবৃষ্টির কষ্ট—দুই অবস্থাই এসেছে। এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে বলেন, গৃহপালিত পশু মরে যাচ্ছে এবং রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) দোয়া করেন। এরপর এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। পরে লোকটি আবার এসে জানায়, অতিবৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, রাস্তা অচল হচ্ছে এবং পশুগুলোও মরে যাচ্ছে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) দাঁড়িয়ে দোয়া করেন, হে আল্লাহ! টিলা, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন। এরপর মদিনা থেকে মেঘ এমনভাবে সরে যায়, যেমন কাপড় ছিঁড়ে ফাঁক হয়ে যায়। হাদিসটি বৃষ্টির জন্য দোয়া এবং ক্ষতিকর বৃষ্টি সরানোর দোয়া শেখায়। তাই একই হাদিসে বৃষ্টি চাওয়া এবং ক্ষতি এড়ানোর জন্য দোয়া—দুই শিক্ষাই পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনাবৃষ্টিতে পশু ও চলাচলের ক্ষতি হতে পারে—এ কথা হাদিসে এসেছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের প্রয়োজন শুনে দোয়া করেছেন।
- অতিবৃষ্টির ক্ষতি দেখা দিলে দোয়ার ভাষা বদলে যায়।
- বৃষ্টিকে পুরো বন্ধ নয়, প্রয়োজনীয় স্থানে সরানোর দোয়া করা হয়েছে।
