৪/১২. অধ্যায়ঃ

সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমামের পর আমীন বলার হাদিস

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮২৫-[৪]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أَمَّنَ الْإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّه مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُه تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ - وَفِى رِوَايَة قَالَ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ ﴿غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ﴾ فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّه مَنْ وَافَقَ قَوْلُه قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ هذَا لَفْظُ الْبُخَارِيُّ وَلِمُسْلِمٍ نَّحْوَه وَفِىْ اُخْرى لِلْبُخَارِىِّ قَالَ إِذَا أَمَّنَ الْقَارِئُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تُؤَمِّنُ فَمَنْ وَافَقَ تَأْمِينُه تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইমাম যখন ‘আমীন’ বলবে, তোমরাও ‘আমীন’ বলবে। কারণ যে ব্যক্তির ‘আমীন’ মালাকগণের আমীনের সাথে মিলে যায়, আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহগুলো মাফ করে দেন। [১] আর এক বর্ণনায় আছে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যখন ইমাম বলে, “গয়রিল মাগযূবি ‘আলায়হিম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন”, তখন তোমরা ‘আমীন’ বলবে। কারণ যার ‘আমীন’ শব্দ মালাকগণের ‘আমীন’ শব্দের সাথে মিলে যায় তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এ শব্দগুলো সহীহুল বুখারীর। [২] সহীহ মুসলিমের হাদীসের শব্দগুলোও এর মতই। আর সহীহুল বুখারীর অন্য একটি বর্ণনার শব্দ হল, নবী (ﷺ) বলেছেন, যখন কুরআন তিলাওয়াতকারী অর্থাৎ ইমাম বা অন্য কেউ ‘আমীন’ বলবে, তোমরাও সাথে সাথে ‘আমীন’ বল। আর যে ব্যক্তির ‘আমীন’ শব্দ মালাকগণের আমীন শব্দের সাথে মিলে যাবে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। [৩]

[১] সহীহ : বুখারী ৭৮০, মুসলিম ৪১০, আবূ দাঊদ ৯৩৬, নাসায়ী ৯৩৮, তিরমিযী ২৫০, ইরওয়া ৩৪৪, সহীহ আল জামি‘ ৩৯৫। [২] সহীহ : বুখারী ৭৮২। [৩] সহীহ : বুখারী ৬৪০২।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮২৫-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জামা‘আতের সালাতে আমীন বলার সময় ও ফজিলত এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ইমাম যখন আমীন বলবে, তোমরাও আমীন বলবে। আর যার আমীন মালাকদের আমীনের সাথে মিলে যায়, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইমাম যখন “গয়রিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায যোয়াল্লীন” বলবে, তখন আমীন বলতে হবে। তাই এখানে মূল শিক্ষা হলো ইমামের অনুসরণ, ফাতিহার শেষে দোয়ার প্রতি মনোযোগ এবং আমীনকে হালকাভাবে না নেওয়া। আমীন নিজে একটি দোয়ার সাড়া; বান্দা যেন আল্লাহর কাছে হিদায়াতের দোয়া করে এবং জামা‘আতের নিয়ম মেনে তা বলে। তাই আমীন বলার সময় তাড়াহুড়া বা উদাসীনতা না করে ইমামের পাঠ শেষ হওয়া বুঝে একাগ্র মনে সাড়া দেওয়া উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইমামের আমীনের পর মুক্তাদির আমীন বলা শেখানো হয়েছে।
  • আমীন দোয়ার অংশ; তাই তা সচেতনভাবে বলা উচিত।
  • মালাকদের আমীনের সাথে মিললে গুনাহ মাফের ফজিলত এসেছে।
  • জামা‘আতে ইমামের অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন