৪/১২. অধ্যায়ঃ
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
ইমামের কিরাআতে সহজতা ও মানুষের অবস্থা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৩৩-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৩৩-[১২]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ يَأْتِي فَيَؤُمُّ قَوْمَه فَصَلّى لَيْلَةً مَعَ النَّبِيِّ ﷺ الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتى قَوْمَه فَأَمَّهُمْ فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَانْحَرَفَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ ثُمَّ صَلّى وَحْدَه وَانْصَرَفَ فَقَالُوا لَه أَنَافَقْتَ يَا فُلَانُ قَالَ لَا وَاللهِ وَلَاۤتِيَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَلاُخْبِرَنَّه فَأَتى رَسُولَ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا أَصْحَابُ نَوَاضِحَ نَعْمَلُ بِالنَّهَارِ وَإِنَّ مُعَاذًا صَلّى مَعَكَ الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتى قَوْمَه فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلى مُعَاذٍ فَقَالَ يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ اقْرَأْ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَالضُّحى وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشى وَسَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلى. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মু'আয ইবনু জাবাল (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর সাথে জামায়াতে সালাত আদায় করতেন, তারপর নিজ এলাকায় যেতেন ও এলাকাবাসীর ইমামতি করতেন। এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে 'ইশার সালাত আদায় করলেন, তারপর নিজ এলাকায় গিয়ে ইমামতি করলেন। তিনি সালাতে সূরা বাকারা পাঠ করতে লাগলেন। এতে বিরক্ত হয়ে এক লোক সালাম ফিরিয়ে সালাত থেকে পৃথক হয়ে গেল। একা একা সালাত আদায় করে চলে গেল।তার এ অবস্থা দেখে লোকজন বিস্মিত হয়ে বলল। হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক্ব হয়ে গেলে? উত্তরে সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি কখনো মুনাফ্বিক হয়নি। নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যাব। এ বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে জানাব।এর পর সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলো। বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি পানি সেচকারী (শ্রমিক), সারাদিন সেচের কাজ করি। মু'আয আপানার সাথে 'ইশার সালাত আদায় করে নিজের গোত্রের ইমামতি করতে এসে সূরাহ্ বাক্বারাহ্ দিয়ে সালাত শুরু করে দিলেন। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) মু'আয-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, হে মু'য়ায! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি 'ইশার সালাতে সূরাহ্ ওয়াশ্ শাম্সি ওয়ায যুহা-হা-, সূরাহ্ ওয়ায্ যুহা-, সূরাহ্ ওয়াল লায়লী ইযা-ইয়াগ্শা-, সূরা সাব্বিহিসমা রব্বিকাল 'আলা-তিলওয়াত করবে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭০৫, মুসলিম ৪৬৫, নাসায়ী ৮৩১, আহমাদ ১৪১৯০; শব্দবিন্যাস মুসলিমের। اَلنَّوَاضِجُ (আন্ নাওয়া-যিজ) অর্থ সে সব উট যার মাধ্যমে কুয়া থেকে পানি উত্তোলন করে বাগানে সরবরাহ করা যায়।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৩৩-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাথে ইশার সালাত পড়ে নিজ এলাকায় গিয়ে ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত শুরু করলে একজন শ্রমজীবী ব্যক্তি কষ্ট পেয়ে আলাদা হয়ে সালাত পড়ে চলে যান। লোকেরা তাকে দোষারোপ করলে তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বিষয়টি জানান। নবী صلى الله عليه وسلم মু‘আয (রাঃ)-কে সতর্ক করে বলেন, তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? এরপর তিনি ইশার সালাতে শামস, দুহা, লাইল এবং আ‘লা ধরনের সূরা পড়ার নির্দেশ দেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইমামকে মুসল্লিদের অবস্থা বুঝতে হবে। দীর্ঘ কিরাআত সব অবস্থায় সবার জন্য সহজ নয়। তাই ইমামতি মানে শুধু সামনে দাঁড়ানো নয়; মানুষের কষ্ট, ক্লান্তি ও সামর্থ্য বিবেচনা করে সালাত পরিচালনা করাও এর অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামকে মুসল্লিদের কষ্ট ও কাজের অবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
- দীর্ঘ কিরাআত দিয়ে মানুষকে সালাত থেকে বিরক্ত করা ঠিক নয়।
- নবী صلى الله عليه وسلم উপযোগী সূরা পড়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
- কারও অভিযোগ শোনা হলে বিষয়টি ন্যায়ের সঙ্গে দেখা উচিত।
