৪/১২. অধ্যায়ঃ

সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ

জামা‘আতে ইমামের অনুসরণের আদব

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮২৬-[৫]

وَعَنْ أَبِيْ مُوْسى اَلأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا صَلَّيْتُمْ فَأَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذا قَالَ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمُ اللّهُ فَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوْا فَإِنَّ الْإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَتِلْكَ بِتِلْكَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللّهُ لِمَنْ حَمِدَه فَقُولُوا اللّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ يَسْمَعُ اللّهُ لَكُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ মূসা আল্ আশ্‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন জামা‘আতে সালাত আদায় করবে, তোমাদের কাতারগুলোকে সোজা করবে। এরপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমাম হবে। ইমাম তাকবির তাহরীমা ‘আল্ল-হু আকবার’ বললে, তোমরাও ‘আল্ল-হু আকবার’ বলবে। ইমাম “গাইরিল মাগযূবি ‘আলায়হিম ওয়ালায্‌ যোয়াল্‌লীন” বললে, তোমরা আমীন বলবে। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের দু‘আ ক্ববুল করবেন। ইমাম রুকূতে যাবার সময় ‘আল্ল-হু আকবার’ বলবে ও রুকূ‘তে যাবে। তখন তোমরাও ‘আল্ল-হু আকবার’ বলে রুকূতে যাবে। ইমাম তোমাদের আগে রুকু‘ করবে। তোমাদের আগে রুকূ‘ হতে মাথা উঠাবে। এরপর নবী (ﷺ) বললেন, এটা ওটার পরিবর্তে (অর্থাৎ তোমরা পরে রুকূ‘তে গেলে, আর পরে মাথা উঠালে ও ইমাম আগে রুকূ‘তে গেলে আর আগে মাথা উঠালে, উভয়ের সময় এক সমান হয়ে গেল)। এরপর নবী (ﷺ) বললেন, ইমাম “সামি‘আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলবে, তোমরা বলবে “আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হাম্‌দ” আল্লাহ তোমাদের প্রশংসা শুনেন। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৪০৪, আবূ দাঊদ ৯৭২, নাসায়ী ১২৮০, আহমাদ ১৯৫০৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ২১৬৭, সহীহ আল জামি‘ ৬৭৩। فَتِلْكَ بِتِلْكَ -এর অর্থ বর্ণনায় ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম যে সময়টুকু তোমাদের আগে রুকূ‘তে গিয়ে অতিবাহিত করছে। ইমাম রুকূ‘ থেকে উঠার পর তোমরা সে সময়টুকু রুকূ‘তে অবস্থান করো তা দ্বারা ইমামের আগে যাওয়ার সময়টুকু পূরণ হয়ে যায়। ফলে তোমাদের এ মুহূর্তটি তার যে সময়ের সমান হয় এবং তোমাদের রুকূ‘র স্থায়িত্বটা তার রুকূ‘র স্থায়িত্বের সমান হয়।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮২৬-[৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জামা‘আতের সালাতের কয়েকটি বড় আদব একসাথে এসেছে। প্রথমে কাতার সোজা করার কথা বলা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, একজন ইমাম হবে এবং ইমাম তাকবীর বললে মুসল্লিরাও তাকবীর বলবে। ইমাম ফাতিহার শেষে “গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায যোয়াল্লীন” বললে আমীন বলতে বলা হয়েছে। রুকুতে যাওয়ার সময়ও ইমাম আগে যাবে, মুক্তাদিরা পরে অনুসরণ করবে। একইভাবে রুকু থেকে ওঠার সময় ইমাম আগে উঠবে। হাদিসে “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ” বলার শিক্ষাও আছে। তাই জামা‘আতের সালাত মানে একসাথে দাঁড়ানোই নয়; এতে কাতার, কিরাআত, আমীন, রুকু ও প্রশংসার নিয়ম আছে। এতে মুসল্লিরা একই ইমামের অধীনে এক দেহের মতো শৃঙ্খলিত হয় এবং সালাতের ভেতরে অস্থিরতা কমে যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জামা‘আতে সালাতের আগে কাতার সোজা করার শিক্ষা আছে।
  • ইমামের তাকবীর, রুকু ও উঠার পর মুক্তাদি অনুসরণ করবে।
  • ফাতিহার শেষে আমীন বলার নির্দেশ এসেছে।
  • রুকু থেকে ওঠার পর আল্লাহর প্রশংসা করার বাক্য শেখানো হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন