৪/৪৮. অধ্যায়ঃ
কুরবানি - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরবানী করা শারী’আত অনুমোদিত যা কুরআন সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। কুরআন দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহ তা’আলার বাণীঃفَصَلِّ لرَبِّكَ وَانْحَرْ’’(ঈদের) সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর’’- (সূরাহ্ আল কাওসার ১০৮: ২)। যেমনটি অধিকাংশ তাফসীরবিদরা বলেছেন আর মুতাওয়াতিরভাবে সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত আর ইজমা হয়েছে এ ব্যাপারে কোন মতানৈক্য নেই। আর মুসলিমদের ’আমল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়কাল হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুতাওয়াতিরভাবে চলে আসছে। আর এটা ইব্রাহীম (আঃ)-এর সুন্নাহ যেমন আল্লাহ তা’আলার বাণীঃوَفَدَيْنهُ بِذَبْحٍ عَظِيْمٍ’’আমি এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে পুত্রটিকে ছাড়িয়ে নিলাম’’- (সূরাহ্ আস্ স-ফফা-ত ৩৭: ১০৭)। আর অধিকাংশ ’আলিমদের অভিমত এটা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্।
ঈদের সালাতের আগে কুরবানী করলে কী হবে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৪৭২-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৪৭২-[১]
عَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: شَهِدْتُ الْأَضْحى يَوْمَ النَّحْرِ مَعَ رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَلَمْ يَعْدُ أَنْ صَلّى وَفَرَغَ مِنْ صَلَاتِه وَسَلَّمَ فَإِذا هُوَ يَرى لَحْمَ أَضَاحِيٍّ قَدْ ذُبِحَتْ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِه فَقَالَ: «مَنْ كَانَ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ أَوْ نُصَلِّيَ فَلْيَذْبَحْ مَكَانَهَا أُخْرى» . وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ خَطَبَ ثُمَّ ذَبَحَ وَقَالَ: «مَنْ كَانَ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيَذْبَحْ أُخْرى مَكَانَهَا وَمَنْ لَمْ يَذْبَحْ فَلْيَذْبَحْ بِاسْمِ اللهِ». (مُتَّفق عَلَيْهِ)
জুনদুব ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক কুরবানীর ঈদে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। (আমি দেখলাম) তিনি সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরায়ে সালাত হতে অবসর হওয়া ছাড়া আর কিছু করলেন না। এ সময় তিনি কিছু কুরবানীর গোশত দেখলেন, যা সালাত আদায়ের পূর্বেই যাবাহ করা হয়েছিল। তিনি তখন বললেন, যে সালাত আদায়ের আগে অথবা আমার সালাত আদায়ের আগে বর্ণনাকারীর সন্দেহ কুরবানীর পশু যাবাহ করছে সে যেন অন্য একটি কুরবানী করে নেয়। আর এক বর্ণনায় আছে, জুনদুব বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর দিন সালাত আদায় করলেন। তারপর ভাষণ প্রদান করলেন। এরপর কুরবানীর পশু যাবাহ করলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের আগে কুরবানীর পশু যাবাহ করেছে সে যেন আর একটি পশু যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি সে যেন আল্লাহর নামে যাবাহ করে। (বুখারী,মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৯৮৫, ৫৫০০, মুসলিম ১৯৬০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৪৭২-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরবানীর সময় সম্পর্কে খুব স্পষ্ট শিক্ষা এসেছে। জুনদুব ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি কুরবানীর ঈদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। রাসূল صلى الله عليه وسلم সালাত শেষ করার পর কিছু কুরবানীর গোশত দেখলেন, যা সালাতের আগেই জবাই করা হয়েছিল। তিনি বললেন, যে সালাতের আগে জবাই করেছে, সে যেন তার বদলে আরেকটি পশু জবাই করে। আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবী صلى الله عليه وسلم সালাত পড়লেন, খুতবা দিলেন, তারপর কুরবানী করলেন এবং বললেন, যে জবাই করেনি সে যেন আল্লাহর নামে জবাই করে। তাই কুরবানীর সময় ও আল্লাহর নামে জবাই করা এখানে মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদের সালাতের আগে কুরবানী করলে বদলে আরেকটি পশু জবাই করার নির্দেশ এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم সালাত ও খুতবার পর কুরবানী করেছেন।
- কুরবানীর পশু আল্লাহর নামে জবাই করতে বলা হয়েছে।
- ইবাদতের সময় ঠিক রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
