৬/৭৯. অধ্যায়ঃ

ইতিকাফ ভঙ্গ করার পর পুনরায় ইতিকাফ করা

রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ ও বাদ পড়া আমল পূরণের শিক্ষা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮০৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ عَامًا فَلَمَّا كَانَ فِي الْعَامِ الْمُقْبِلِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ‏.‏ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْمُعْتَكِفِ إِذَا قَطَعَ اعْتِكَافَهُ قَبْلَ أَنْ يُتِمَّهُ عَلَى مَا نَوَى فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا نَقَضَ اعْتِكَافَهُ وَجَبَ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ ‏.‏ وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنِ اعْتِكَافِهِ فَاعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ نَذْرُ اعْتِكَافٍ أَوْ شَيْءٌ أَوْجَبَهُ عَلَى نَفْسِهِ وَكَانَ مُتَطَوِّعًا فَخَرَجَ فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَقْضِيَ إِلاَّ أَنْ يُحِبَّ ذَلِكَ اخْتِيَارًا مِنْهُ وَلاَ يَجِبُ ذَلِكَ عَلَيْهِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ ‏.‏ قَالَ الشَّافِعِيُّ فَكُلُّ عَمَلٍ لَكَ أَنْ لاَ تَدْخُلَ فِيهِ فَإِذَا دَخَلْتَ فِيهِ فَخَرَجْتَ مِنْهُ فَلَيْسَ عَلَيْكَ أَنْ تَقْضِيَ إِلاَّ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রমজানের শেষ দশদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতেকাফ করতেন। কিন্তু তিনি এক বছর ইতেকাফ করতে সক্ষম হননি। তাই তিনি পরের বছর বিশ দিন ইতেকাফ করেন।

-সহীহ, সহীহ আবূ দাঊদ (২১২৬)এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা আনাস ইবনু মালিকের হাদীস হিসেবে হাসান গারীব সহীহ্‌ বলেছেন। আলিমগণের মধ্যে নিয়্যাত করার পর পূর্ণ করার আগেই ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মতভেদ রয়েছে। একদল আলিম তার কাযা আদায় করাকে ওয়াজিব বলেছেন। নিম্নোক্ত হাদীসটি দ্বারা তারা দলীল গ্রহণ করেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইতিকাফ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসলেন, পরে শাওয়াল মাসের দশদিন ইতিকাফ করেন।" এরকম মত ইমাম মালিক (রহঃ)-এরও। অন্য একদল আলিম বলেন, মানত বা নিজেদের জন্য অবশ্য পালনীয় ইতিকাফ যদি না হয়ে থাকে এবং যদি নফল ইতিকাফ হয়ে থাকে তাহলে এমতাবস্থায় ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে গেলে তার কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়। যদি কেউ স্বেচ্ছায় কাযা করে তবে তা করতে পারে কিন্তু তা তার উপর ওয়াজিব নয়। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এই মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, তোমার জন্য যেসব আমল ছেড়ে দেয়া জায়িয তুমি যদি এ ধরণের কোন আমল করতে শুরু কর এবং তা পূর্ণ না করে ছেড়ে দাও তাহলে তোমার উপর এ ধরণের কোন আমল কাযা করা ওয়াজিব নয় শুধুমাত্র হাজ্জ ও উমরা ব্যতীত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮০৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নিয়মিত আমল বর্ণিত হয়েছে। তিনি সাধারণত রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর কোনো কারণে ইতিকাফ করতে সক্ষম হননি। পরের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন। মূল পাঠ আমাদের দেখায়, গুরুত্বপূর্ণ একটি নেক আমল কোনো বছর বাদ পড়লে সেটিকে অবহেলা না করে পরে বেশি সময় দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করা যায়। একই সঙ্গে হাদিসের দীর্ঘ অংশে স্বেচ্ছা ইতিকাফ ভেঙে গেলে কাজা লাগবে কি না—এ বিষয়ে আলিমদের ভিন্ন মতও উল্লেখ আছে। তাই এই বর্ণনা থেকে একটি নির্দিষ্ট ফিকহি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে, নবী صلى الله عليه وسلم-এর ইতিকাফের ধারাবাহিকতা ও আমলের প্রতি যত্নকেই প্রধান শিক্ষা হিসেবে দেখা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নিয়মিত আমল ছিল।
  • এক বছর ইতিকাফ না হওয়ায় পরের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন।
  • নেক আমল বাদ পড়লে তা গুরুত্ব দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করা যায়।
  • ইতিকাফ ভাঙার কাজা নিয়ে আলিমদের ভিন্ন মত বর্ণনায় উল্লেখ আছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন