৬/৭৮. অধ্যায়ঃ
কোন সময়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা হয়
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন নির্ধারণের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮০২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮০২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْيَمَانِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ النَّاسُ وَالأَضْحَى يَوْمَ يُضَحِّي النَّاسُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى سَأَلْتُ مُحَمَّدًا قُلْتُ لَهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ سَمِعَ مِنْ عَائِشَةَ قَالَ نَعَمْ يَقُولُ فِي حَدِيثِهِ سَمِعْتُ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা যেদিন রোজা ভেঙ্গে ফেলে সেদিন হল ঈদুল ফিতর এবং লোকেরা যেদিন কুরবানি করে সেদিন ঈদুল আজহা।
-সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (১৬৬০)আবূ ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, আইশা (রাঃ)-এর নিকট কি মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির হাদীস শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তার হাদীসে তিনি বলেন, আইশা (রাঃ)-এর নিকট আমি শুনেছি। এই সূত্রে আবূ ঈসা হাদীসটিকে হাসান গারীব সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো ঈদ ব্যক্তিগতভাবে আলাদা করে ঠিক করার বিষয় নয়; এটি মুসলিম সমাজের সম্মিলিত আমলের সঙ্গে যুক্ত। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, লোকেরা যেদিন রোজা ভাঙে সেটিই ঈদুল ফিতরের দিন এবং লোকেরা যেদিন কুরবানি করে সেটিই ঈদুল আজহার দিন। এখানে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—দুই ঈদের সামাজিক দিক পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। অর্থাৎ একজন মানুষ নিজের হিসাব ধরে অন্য সবার আগে বা পরে ঈদ পালন করবে—এমন কথা হাদিসে নেই। বরং মানুষের সম্মিলিতভাবে রোজা শেষ করা ও কুরবানি করার দিনের কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি মুসলিম সমাজের ঐক্য, প্রকাশ্য ইবাদত এবং একসঙ্গে ধর্মীয় দিন পালন করার গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে। এতে ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্নতার বদলে প্রকাশ্য সম্মিলিত আমলের দিকটি সামনে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদুল ফিতর মুসলিম সমাজের সম্মিলিত রোজা ভাঙার দিনের সঙ্গে যুক্ত।
- ঈদুল আজহা মানুষের সম্মিলিত কুরবানির দিনের সঙ্গে যুক্ত।
- ধর্মীয় উৎসব পালনে সমাজের ঐক্য ও একসঙ্গে আমল করার গুরুত্ব আছে।
