১৭/১২. অধ্যায়ঃ
কুরবানী করতে হবে ঈদের নামায আদায়ে পর
ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করলে কী করতে হবে
জামে তিরমিযী : ১৫০৮
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫০৮
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمِ نَحْرٍ فَقَالَ " لاَ يَذْبَحَنَّ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُصَلِّيَ " . قَالَ فَقَامَ خَالِي فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا يَوْمٌ اللَّحْمُ فِيهِ مَكْرُوهٌ وَإِنِّي عَجَّلْتُ نُسُكِي لأُطْعِمَ أَهْلِي وَأَهْلَ دَارِي أَوْ جِيرَانِي . قَالَ " فَأَعِدْ ذَبْحًا آخَرَ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدِي عَنَاقُ لَبَنٍ وَهِيَ خَيْرٌ مِنْ شَاتَىْ لَحْمٍ أَفَأَذْبَحُهَا قَالَ " نَعَمْ وَهِيَ خَيْرُ نَسِيكَتَيْكَ وَلاَ تُجْزِئُ جَذَعَةٌ لأَحَدٍ بَعْدَكَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَجُنْدَبٍ وَأَنَسٍ وَعُوَيْمِرِ بْنِ أَشْقَرَ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي زَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يُضَحَّى بِالْمِصْرِ حَتَّى يُصَلِّيَ الإِمَامُ وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ لأَهْلِ الْقُرَى فِي الذَّبْحِ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ أَجْمَعَ أَهْلُ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يُجْزِئَ الْجَذَعُ مِنَ الْمَعْزِ وَقَالُوا إِنَّمَا يُجْزِئُ الْجَذَعُ مِنَ الضَّأْنِ .
বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুরবানির দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে খুতবা প্রদান করলেন। তিনি বললেনঃ (ঈদের) নামাজ আদায়ের আগে তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন কুরবানি না করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মামা দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আজকের দিন তো এমন যে, পরে গোশত অপছন্দ লাগে। তাই আমি আমার পরিবারের সদস্যদের এবং প্রতিবেশীদেরকে খাওয়ানোর জন্য কুরবানি করে ফেলেছি। তিনি বললেন, তুমি আবার একটি পশু যবেহ করে দাও। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! দুধ খায় এমন একটি বকরির বাচ্চা এখনও আমার নিকট আছে, যা দুটি হৃষ্টপুষ্ট বকরির চাইতেও উত্তম। আমি কি এটাকে যবেহ করে দেব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তোমার জন্য এটা উত্তম কুরবানি। তবে বকরির এরূপ বাচ্চা কুরবানি করা তোমার পর আর কারো জন্য বৈধ হবে না।
সহীহ্, ইরওয়া (২৪৯৫), সহীহ্ আবূ দাউদ (২৪৯৫-২৪৯৬), মুসলিম, বুখারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।জাবির, জুনদাব, আনাস, উয়াইমির ইবনু আশকার, ইবনু উমার ও আবূ যাইদ আল-আনসারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক বেশির ভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তাদের মত অনুযায়ী শহরবাসী জনগণের জন্য ইমামের নামায সমাপ্তির পূর্বে কুরবানী করা বৈধ নয়। একদল আলিম গ্রামবাসীদের জন্য ফজরের নামাযের সময় হওয়ার পরই কুরবানীর সম্মতি দিয়েছেন। এই মত দিয়েছেন ইবনুল মুবারাকও। এ বিষয়ে আলিমদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে যে, ছয় মাসের বকরীর বাচ্চা কুরবানী করা হলে তা যথেষ্ট হবে না। কিন্তু ছয় মাসের মেষের বাচ্চা কুরবানী করলে তা বৈধ হবে।
জামে তিরমিযী হাদিস ১৫০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরবানির সময়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুরবানির দিনের খুতবায় বলেন, ঈদের নামাজের আগে কেউ যেন কুরবানি না করে। একজন সাহাবির মামা পরিবার ও প্রতিবেশীদের খাওয়ানোর জন্য আগেই পশু যবেহ করেছিলেন। তাঁকে আবার একটি পশু যবেহ করতে বলা হয়। পরে তিনি জানান, তাঁর কাছে দুধ খায় এমন একটি বকরির বাচ্চা আছে, যা দুটি মোটাতাজা বকরির চেয়েও ভালো। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বিশেষভাবে সেটি যবেহ করার অনুমতি দেন, তবে পরিষ্কার করে বলেন যে এই অনুমতি তাঁর পর অন্য কারও জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করলে কী হবে—এই হাদিসে উত্তর হলো, আগের যবেহ কুরবানি হিসেবে যথেষ্ট হয়নি এবং নতুন করে যবেহ করতে বলা হয়েছে। বিশেষ অনুমতিকে সাধারণ নিয়ম বানানো যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করতে নিষেধ করা হয়েছে।
- আগে যবেহ করা হলে নতুন করে পশু যবেহ করতে বলা হয়েছে।
- পরিবার ও প্রতিবেশীদের খাওয়ানোর ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও সময়ের নিয়ম মানতে হবে।
- বকরির ছোট বাচ্চার অনুমতিটি ওই ব্যক্তির জন্য বিশেষ ছিল।
