১৬/১৭. অধ্যায়ঃ
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে
ইফরাদ হজ: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হজের বর্ণনা
সহীহ মুসলিম : ২৮১১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮১১
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي خَالِي، مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى، بْنُ يَحْيَى قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْرَدَ الْحَجَّ .
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইফরাদ হজ্জ করেছিলেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৭৮৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৭৮৬[১৯] ‘আয়িশাহ্ এবং ইবনু ‘উমার-এর বর্ণনায় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জে ইফরাদ করেছেন, এর তিনটি অর্থ হতে পারে- (ক) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল হাজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ করেছিলেন, (খ) দ্বিতীয় অর্থ এই যে, হাজ্জের কার্যে ইফরাদ করেছেন অর্থাৎ হাজ্জ ও ‘উমরার জন্য ত্বওয়াফ ও সা’ঈ একটি করেই করেছেন, (গ) হিজরতের পর একবারই হাজ্জ করেছেন, কিন্তু ‘উমরার বিপরীত, কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনে চারবার ‘উমরাহ্ করেছেন, তিনটির মধ্যে ইফরাদের দ্বিতীয় অর্থই সঠিক এবং ইবনু ‘উমার (রাঃ) এ অর্থই উদ্দেশ্য যে, দু’টি কাজ একবার করেই আদায় করেছেন। আর এ অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে সব বর্ণনার মধ্যে সামঞ্জস্যও হয়ে যায় এবং রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্যও এটা উপযুক্ত যে, তিনি উম্মাতের জন্য সহজ বিধান চান। এজন্যই রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে ইরশাদ করেন, তোমাদের এ ত্বওয়াফ (অর্থাৎ ত্বওয়াফে ইফাযাহ্) হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের জন্য যথেষ্ট। (যাদুল মা’আদ)
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু হজের ধরন বুঝতে তা গুরুত্বপূর্ণ। আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইফরাদ হজ করেছিলেন। ইফরাদ হজ বলতে এখানে শুধু হজের ইহরাম ও হজের আমলের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই বর্ণনা হজের ধরন নিয়ে আলোচনা করার সময় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আসে। একই অধ্যায়ের অন্য বর্ণনাগুলোতে দেখা যায়, সাহাবীদের মধ্যে কেউ উমরা, কেউ হজ, কেউ হজ-উমরা একসঙ্গে করেছিলেন। কিন্তু এই হাদিসে বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইফরাদ হজের কথা বলা হয়েছে। তাই হজের ধরন নিয়ে জানার সময় এই হাদিসকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হজের ধরন সম্পর্কে সরাসরি বর্ণনা এসেছে।
- ইফরাদ হজ হজের একটি পরিচিত ধরন।
- সংক্ষিপ্ত হাদিসও গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি বিষয় বোঝাতে পারে।
- হজের ধরন বুঝতে একই অধ্যায়ের অন্যান্য বর্ণনাও সহায়ক।
