৪/১৯. অধ্যায়ঃ
সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়েজ ও যে সব কাজ করা জায়েজ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ফরজ সালাতে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৯৯৭-[২০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৯৯৭-[২০]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: يَا بُنَيَّ إِيَّاكَ وَالِالْتِفَاتَ فِي الصَّلَاةِ فَإِنَّ الِالْتِفَاتَ فِي الصَّلَاةِ هَلَكَةٌ. فَإِنْ كَانَ لَابُدَّ فَفِي التَّطَوُّع لَا فِي الْفَرْضِيَّة . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আমার বৎস! সালাতে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে সাবধান থাকো। কারণ সালাতে (ঘাড় ফিরিয়ে) এদিক-সেদিক লক্ষ্য করা ধ্বংসাত্নক কান্ড। যদি নিরুপায় হয়ে পড় তবে নাফ্ল সালাতের ক্ষেত্রে (অনুমতি থাকবে) ফরজ সালাতের ক্ষেত্রে নয়। (তিরমিযী) [১]
[১] দুর্বল : আত্ তিরমিযী ৫৮৯, য‘ঈফুল জামি‘ ৬৩৮৯, য‘ঈফ আত্ তারগীব ২৯০। কারণ সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেননি। অতএব সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৯৭-[২০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খুব স্নেহের ভাষায় সতর্ক করেছেন: “হে আমার বৎস! সালাতে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে সাবধান থাকো।” এরপর তিনি বলেন, সালাতে এদিক-সেদিক তাকানো ধ্বংসাত্মক কাজ। আর যদি একেবারে নিরুপায় হতে হয়, তবে তা নফল সালাতে; ফরজ সালাতে নয়। এই বর্ণনা ফরজ সালাতের গুরুত্বকে আলাদা করে তুলে ধরে। সালাতের মধ্যে ঘাড় ফিরিয়ে বা অকারণে তাকানো মনোযোগ ভেঙে দেয়। নবী صلى الله عليه وسلم-এর সতর্কবাণী দেখায়, নামাজে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় আদব। একই সঙ্গে হাদিসটি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে নফল ও ফরজের পার্থক্যও উল্লেখ করে, তবে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না করে মূল ভাষার মধ্যেই থাকা নিরাপদ। মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো, বিশেষ করে ফরজ সালাতে চোখ ও মনকে স্থির রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।
- ফরজ সালাতে দৃষ্টি ফেরানো বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা এসেছে।
- নফল ও ফরজ সালাতের আদবে পার্থক্যের ইঙ্গিত এই বর্ণনায় আছে।
