৩/৫. অধ্যায়ঃ
গোসলের বিবরণ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ফরজ গোসলে সামান্য অংশও বাদ না দেওয়ার সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৪৪-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৪৪-[১৫]
وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعْرَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ لَمْ يَغْسِلْهَا فُعِلَ بِهَا كَذَا وَكَذَا مِنْ النَّارِ قَالَ عَلِيٌّ فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي ثَلَاثًا. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وأَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ اِلَّا أَنَّهُمَا لَمْ يُكَرِّرَا فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক নাপাকীর এক চুল পরিমাণও ছেড়ে দিবে এবং তা ধুবে না তাকে এভাবে এভাবে জাহান্নামে ‘আযাব দেয়া হবে। ‘আলী (রাঃ) বললেন, সেদিন হতে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করছি। সেদিন হতে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করেছি। সেদিন হতে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করে আসছি- এরূপ তিনবার বললেন। [৪৬৫]কিন্তু আহমাদ ও দারিমী “সে হতেই আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করছি” বাক্যটি তিনবার বলেননি।[১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ২৪৯, আহমাদ ৭২৯, দারিমী ৭৫১, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৯৩০। কারণ এটি ‘আত্বা ইবনুস সায়িব হতে হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্-এর বর্ণনা। আর তিনি (হাম্মাদ) ‘আত্বার কাছ থেকে তার মুখস্থ শক্তির ত্রুটির অবস্থায় হাদীস শ্রবণ করেছেন। এজন্য ইমাম নাবাবী (রহঃ) হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৪৪-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে অবহেলার ভয়াবহ দিক স্মরণ করানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি নাপাকীর গোসলে এক চুল পরিমাণ জায়গাও না ধুয়ে রেখে দেয়, তার ব্যাপারে আগুনের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এরপর আলী (রাঃ) বলেন, সেদিন থেকে তিনি মাথার ব্যাপারে খুব সতর্ক হয়েছেন। এখানে ‘মাথার সাথে শত্রুতা’ কথাটি মাথা ধোয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যত্ন নেওয়ার অর্থে এসেছে। হাদিসের শিক্ষা হলো, ফরজ গোসল করার সময় শরীরের অংশে পানি পৌঁছেছে কি না তা খেয়াল করা। তবে বর্ণনায় “এভাবে এভাবে” বলা হয়েছে, তাই এর বিস্তারিত রূপ নিয়ে নিজের পক্ষ থেকে বাড়তি কিছু বলা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ গোসলে শরীরের কোনো অংশ শুকনা রাখা উচিত নয়।
- মাথা ও চুল ধোয়ার সময় বিশেষ যত্ন দরকার।
- পবিত্রতার কাজে অবহেলা হাদিসে কঠোরভাবে অপছন্দ করা হয়েছে।
- হাদিসে যতটুকু এসেছে, ব্যাখ্যায় ততটুকুতেই থাকা নিরাপদ।
