২/০. অধ্যায়ঃ
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
কুরআনধারীদের জন্য সোজা পথে থাকার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৪-[৭৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৪-[৭৭]
وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ يَا مَعْشَرَ الْقُرَّاءِ اسْتَقِيمُوا فَقَدْ سَبَقْتُمْ سَبْقًا بَعِيدًا فَإِنْ أَخَذْتُمْ يَمِينًا وَشِمَالًا لَقَدْ ضَلَلْتُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (তাবি’ঈদের উদ্দেশ্যে) বলেন, হে কুরআন-ধারী (‘আলিম) গন! সোজা সরল পথে চল। কেননা (প্রথমে দ্বীন গ্রহন করার দরুন পরবর্তীদের তুলনায়) তোমরা অনেক অগ্রসর হয়েছে। অপরপক্ষে তোমরা যদি (সরল পথ বাদ দিয়ে) ডান ও বামের পথ অবলম্বন কর, তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে সুদুর বিভ্রান্তিতে পতিত হবে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭২৮২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৪-[৭৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কুরআনধারী বা আলিমদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, সোজা সরল পথে চল। কারণ তারা দ্বীন গ্রহণের কারণে অনেক এগিয়ে আছে। এই অগ্রগতি সম্মানের হলেও এর সঙ্গে দায়িত্বও আছে। যদি তারা সোজা পথ ছেড়ে ডান বা বামের পথ নেয়, তাহলে তারা বড় বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে। এখানে ‘সোজা পথ’ বলতে দ্বীনের সঠিক পথে স্থির থাকা বোঝানো হয়েছে। কুরআন জানা মানুষ যদি নিজেই পথভ্রষ্ট হয়, তাহলে তার ক্ষতি শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; অন্যরাও প্রভাবিত হতে পারে। তাই কুরআন শেখা, জানা এবং বহন করার সঙ্গে সঙ্গে স্থিরতা, সতর্কতা ও আমলের প্রয়োজন আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনধারীদের সোজা পথে স্থির থাকা জরুরি।
- ইলম মানুষকে অগ্রসর করে, কিন্তু দায়িত্বও বাড়ায়।
- সঠিক পথ ছেড়ে এদিক-সেদিক গেলে বিভ্রান্তির ঝুঁকি থাকে।
- কুরআন জানা মানুষের জন্য আমল ও স্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ।
