২/০. অধ্যায়ঃ
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
উপকারী ইলম: অন্তরে থাকা জ্ঞান ও মুখের কথা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭০-[৭৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭০-[৭৩]
وَعَنِ الْحَسَنِ قَالَ الْعِلْمُ عِلْمَانِ فَعِلْمٌ فِي الْقَلْبِ فَذَلِكَ الْعِلْمُ النَّافِعُ وَعِلْمٌ عَلَى اللِّسَانِ فَذَلِكَ حُجَّةُ اللهِ عَزَّوَجَلَّ عَلَى ابْنِ اۤدَمَ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
হাসান আল বসরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘ইলম দুই প্রকার। এক প্রকার ইলম হল অন্তরে যা উপকারি ‘ইলম। আর অপর প্রকার ‘ইলম হল মুখে মুখে, আর এটা হল আল্লাহর পক্ষে বানী আদামের বিরুদ্ধে দলীল। [১]
[১] মুরসালুত্ তাবি‘ঈ : দারিমী ৩৬৪। তবে এর সানাদটি সহীহ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭০-[৭৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইলমকে দুই ভাগে বলা হয়েছে। এক ধরনের ইলম অন্তরে থাকে, আর সেটিই উপকারী ইলম। অর্থাৎ যে জ্ঞান মানুষকে আল্লাহভীতি, আমল, সতর্কতা ও ভালো পথে নিয়ে যায়, সেটিই সত্যিকারের কাজে লাগে। অন্য ধরনের ইলম শুধু মুখে থাকে। মানুষ তা বলতে পারে, আলোচনা করতে পারে, কিন্তু তা তার অন্তর ও জীবনে প্রভাব ফেলে না। এই ধরনের জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে বানী আদমের বিরুদ্ধে দলীল হয়ে যেতে পারে। তাই এখানে ‘উপকারী ইলম’ বিষয়ে গভীর শিক্ষা আছে। ইলম মুখে থাকলেই যথেষ্ট নয়; তা হৃদয়ে ঢুকতে হবে এবং জীবনের কাজে দেখা যেতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উপকারী ইলম অন্তরে প্রভাব ফেলে।
- শুধু মুখে মুখে জ্ঞান বলা যথেষ্ট নয়।
- জ্ঞান যদি আমলে না আসে, তা মানুষের বিরুদ্ধে দলীল হতে পারে।
- ইলম শেখার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নিজেকে সংশোধন করা।
