২/০. অধ্যায়ঃ
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ভাল আলিম ও মন্দ আলিম সম্পর্কে নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৭-[৭০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৭-[৭০]
وَعَنِ الْأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ ﷺ عَنِ الشَّرِّ فَقَالَ لَا تَسْأَلُونِي عَنْ الشَّرِّ وَاسْأَلُونِي عَنْ الْخَيْرِ يَقُولُهَا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ أَلاَ إِنَّ شَرَّ الشَّرِّ شِرَارُ الْعُلَمَاءِ وَإِنَّ خَيْرَ الْخَيْرِ خِيَارُ الْعُلَمَاءِ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
হাকীম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে মন্দ (লোক) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, আমাকে মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, বরং ভাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি বললেন, সাবধান! খারাপ মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট হচ্ছে মন্দ ‘আলিম। আর ভাল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ভাল হল ভাল ‘আলিমরা। [১]
[১] য‘ঈফ : দারিমী ৩৭০। কারণ আহ্ওয়াস থেকে দারিমী পর্যন্ত এর সানাদের সবগুলো বর্ণনাকারী দুর্বল। এর উপর হাদীস মুরসালুত তাবি‘ঈ যা গ্রহণযোগ্য নয়।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৭-[৭০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, বরং ভাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো। তিনি কথাটি তিনবার বলেন। এতে বোঝা যায়, মানুষের মন ও কথাকে কল্যাণের দিকে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর তিনি সতর্ক করে বলেন, খারাপ মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট হচ্ছে মন্দ আলিম, আর ভাল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ভাল হলো ভাল আলিমরা। এখানে আলিমের প্রভাবের কথা বোঝানো হয়েছে। একজন আলিম যদি ভাল হন, তার ইলম মানুষকে কল্যাণের দিকে নিতে পারে। আর আলিম যদি মন্দ হন, তার ভুল দিকনির্দেশনা মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ‘আলিমের মর্যাদা’ যেমন বড়, তেমনি তার দায়িত্বও বড়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কল্যাণ সম্পর্কে জানা ও প্রশ্ন করা ভালো অভ্যাস।
- ভাল আলিম মানুষের জন্য বড় উপকারের কারণ হতে পারেন।
- মন্দ আলিমের ক্ষতি সাধারণ মানুষের ক্ষতির চেয়ে বেশি হতে পারে।
- ইলমের সঙ্গে সততা ও ভাল চরিত্র থাকা দরকার।
