১১/৭. অধ্যায়ঃ
কুরবানির পশুর বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
পথে অচল হাদীর পশু হলে কী করণীয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৩৫-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৩৫-[৯]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَ: بَعَثَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ سِتَّةَ عَشَرَ بَدَنَةً مَعَ رَجُلٍ وَأَمَّرَه فِيهَا. فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ كَيْفَ أَصْنَعُ بِمَا أُبْدِعَ عَلَىَّ مِنْهَا؟ قَالَ: انْحَرْهَا ثُمَّ اصْبُغْ نَعْلَيْهَا فِىْ دَمِهَا ثُمَّ اجْعَلْهَا عَلٰى صَفْحَتِهَا وَلَا تَأْكُلْ مِنْهَا أَنْتَ وَلَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ رُفْقَتِكَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার (মাক্কায়) এক ব্যক্তির সাথে কুরবানী করার জন্য ১৬টি উটনী পাঠালেন এবং তাকে কুরবানী করার জন্য দায়িত্ব বুঝে দিলেন। লোকটি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! যদি পথিমধ্যে উটগুলোর কোনটি অচল হয়ে পড়ে তখন আমার করণীয় কি? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যাবাহ করে দেবে। অতঃপর এর মালার জুতা দুইটি এর রক্তে রঞ্জিত করে তার কুঁজের পাশে রাখবে। তবে তুমি ও তোমার সাথীদের কেউ তা (গোশত) খাবে না। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৩২৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০২৪৮, আবূ দাঊদ ১৭৬৩, আহমাদ ১৮৬৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪০২৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৩৫-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির সঙ্গে ষোলটি কুরবানীর উটনী পাঠালেন এবং তাকে দায়িত্ব দিলেন। লোকটি জানতে চাইল, পথে কোনো উট অচল হয়ে পড়লে কী করবে। নবীজি বললেন, সেটি জবাই করবে। এরপর তার গলার মালার জুতা রক্তে রাঙিয়ে কুঁজের পাশে রাখবে। তবে সে নিজে এবং তার সঙ্গীদের কেউ সেই গোশত খাবে না। এই হাদিসে হাদীর পশু পথে অক্ষম হয়ে গেলে করণীয় খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। এতে পশুকে অবহেলা করা নয়, বরং নির্দিষ্ট নিয়মে জবাই, চিহ্ন রাখা এবং নিজেরা না খাওয়ার নির্দেশ দেখা যায়। হজ্জের কুরবানীর পশু পরিচালনায় দায়িত্ববোধের শিক্ষা এখানে স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পথে হাদীর পশু অচল হলে জবাই করার নির্দেশ এসেছে।
- মালার জুতা রক্তে রাঙিয়ে কুঁজের পাশে রাখতে বলা হয়েছে।
- দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তার সঙ্গীদের সেই গোশত খেতে নিষেধ করা হয়েছে।
- কুরবানীর পশু দেখাশোনায় নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও নিয়ম আছে।
