১১/৪. অধ্যায়ঃ
আরাফায় অবস্থান প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
আরাফার দিনের ফজিলত ও আল্লাহর রহমত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৫৯৪-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৫৯৪-[৩]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللّٰهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ وَإِنَّه لَيَدْنُو ثُمَّ يُبَاهِىْ بِهِمُ الْمَلَائِكَةَ فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে ‘আরাফার দিনের চেয়ে জাহান্নাম থেকে বেশি মুক্তি দিয়ে থাকেন। তিনি সেদিন বান্দাদের খুব নিকটবর্তী হন, তাদেরকে নিয়ে মালায়িকার (ফেরেশতাগণের) কাছে গর্ববোধ করে বলেন, এরা কি চায়? (অর্থাৎ- যা চায় আমি তাদেরকে তাই দেবো)। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৩৪৮, মুসতাদ্রাক লিল হাকিম ১৭০৫, ইবনু মাজাহ ৩০১৪, সহীহাহ্ ২৫৫১, সহীহ আল জামি‘ ৫৭৯৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৫৯৪-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আরাফার দিনের এক বড় ফজিলত এসেছে। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, এমন কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ আরাফার দিনের চেয়ে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন। তিনি সেদিন বান্দাদের নিকটবর্তী হন এবং ফেরেশতাদের কাছে তাঁদের নিয়ে গর্ব করেন। এরপর বলেন, “এরা কী চায়?” এই হাদিসে আরাফার দিন, আল্লাহর রহমত, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং বান্দাদের দোয়ার মর্যাদা স্পষ্ট। এখানে বান্দাদের আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর দয়ার দরজা খোলার কথা খুব সুন্দরভাবে এসেছে। তবে হাদিসের ভাষা অনুযায়ীই বলা উচিত—এটি আরাফার দিনের বিশেষ ফজিলত, যা নবীজি صلى الله عليه وسلم বর্ণনা করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরাফার দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তির বড় ফজিলতের দিন হিসেবে এসেছে।
- আল্লাহ সেদিন বান্দাদের নিকটবর্তী হন—এ কথা হাদিসে বর্ণিত।
- ফেরেশতাদের কাছে বান্দাদের নিয়ে আল্লাহর গর্ব করার কথা এসেছে।
- আরাফার দিন দোয়া, আশা ও আল্লাহর রহমতের সঙ্গে যুক্ত।
