২/০. অধ্যায়ঃ
ইলম (বিদ্যা) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা থেকে সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪৩-[৪৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪৩-[৪৬]
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ أَنَّ نَبِىَّ ﷺ نَهى عَنِ الأُغْلُوْطَاتِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ
মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আমাদেরকে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন। [১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৬৫৬, য‘ঈফুল জামি‘ ৬০৩৫। যাহাবী বলেন, এর সানাদে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বিন সা‘দ অপরিচিত (মাজহূল) রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪৩-[৪৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মু‘আবিয়াহ রা. বর্ণনা করেছেন যে নবী صلى الله عليه وسلم আমাদেরকে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন। এখানে মূল বিষয় হলো এমন কথা, প্রশ্ন বা আলোচনা থেকে দূরে থাকা, যা মানুষকে সত্যের কাছে না নিয়ে বরং ধোঁয়াশায় ফেলে। দ্বীনি ইলমের উদ্দেশ্য হলো পথ দেখানো, সন্দেহ বাড়ানো নয়। তাই বক্তা, শিক্ষক, লেখক বা সাধারণ মুসলিম—সবার উচিত এমনভাবে কথা বলা যাতে মানুষের বুঝতে সুবিধা হয়। অপ্রয়োজনীয় জটিল প্রশ্ন, অহেতুক তর্ক বা বিভ্রান্তিমূলক কথা মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ইলমের আলো ছড়াতে হলে কথা হতে হবে পরিষ্কার, দায়িত্বশীল ও কল্যাণমুখী।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যে কথা মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তা থেকে দূরে থাকা উচিত।
- দ্বীনি আলোচনার লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্যকে সহজ করা।
- অহেতুক জটিল প্রশ্ন বা তর্ক ইলমের উপকার কমিয়ে দিতে পারে।
- কথা বলার সময় মানুষের বুঝার সুবিধা বিবেচনা করা দরকার।
