১০/৪. অধ্যায়ঃ
সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
নফস ও শয়তান থেকে আশ্রয়ের সকাল-সন্ধ্যার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৩৯০-[১০]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২৩৯০-[১০]
وَعنهُ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ مُرْنِىْ بِشَىْءٍ أَقُولُه إِذَا أَصْبَحْتُ وَإِذَا أَمْسَيْتُ قَالَ: «قُلِ اللّٰهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَىْءٍ وَمَلِيكَه أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِىْ وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِه قُلْهُ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ والدَّارِمِىُّ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেছেন, একদিন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি দু‘আ বলে দিন যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে, ‘‘আল্ল-হুম্মা ‘আ-লিমাল গয়বি ওয়াশ্শাহা-দাতি, ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, রব্বা কুল্লি শাইয়িন, ওয়া মালীকাহূ আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা, আ‘ঊযুবিকা মিন্ শাররি নাফ্সী, ওয়ামিন শার্রিশ্ শায়ত্ব-নি, ওয়া শিরকিহী’’(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, আমি তোমার কাছে আমার মনের মন্দ হতে, শয়তানের মন্দ ও তাঁর শির্ক হতে আশ্রয় চাই।)তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি এ দু‘আ সকালে-সন্ধ্যায় ও ঘুমানোর সময় পড়বে।’’ (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]
[১] সহীহ : তিরমিযী ৩৩৯২, আবূ দাঊদ ৫৬৭, আহমাদ ৬৩, দারিমী ২৭৩১, ইবনু হিব্বান ৯৬২, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ১২০২/৯১৭।
মিশকাতুল মাসাবিহ হাদিস ২৩৯০-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন একটি দু‘আ জানতে চান, যা তিনি সকাল-সন্ধ্যায় পড়বেন। নবীজি তাঁকে আল্লাহর কয়েকটি মহান পরিচয় দিয়ে দোয়া শুরু করতে শেখান: তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী, আসমান-জমিনের স্রষ্টা, সব কিছুর রব ও মালিক। এরপর তাওহীদের সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে—তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তারপর নিজের নফসের মন্দ, শয়তানের মন্দ এবং তার শিরক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, এই দোয়া সকাল, সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর সময় পড়তে। তাই এটি আত্মশুদ্ধি, তাওহীদ ও হিফাযাতের দোয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সকাল-সন্ধ্যায় নফসের মন্দ থেকে আশ্রয় চাইতে শেখানো হয়েছে।
- শয়তান ও শিরক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া দরকার।
- দোয়ার শুরুতে আল্লাহর পরিচয় ও তাওহীদের সাক্ষ্য এসেছে।
- এই দোয়া সকাল, সন্ধ্যা ও ঘুমানোর সময় পড়ার নির্দেশ আছে।
