৬/২. অধ্যায়ঃ
ফিতরার বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সদাক্বায়ে ফিতরের উদ্দেশ্য: রোজা পবিত্র ও গরিবের খাদ্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮১৮-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮১৮-[৪]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: فَرَضَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَ الصِّيَامِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِيْنِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাওমকে অযথা কথা, খারাপ আলাপ-আলোচনা থেকে পবিত্র করার ও গরীব মিসকীনকে খাদ্যবস্তু দেবার উদ্দেশ্যে সদাক্বায়ে ফিত্বর ফরজ করে দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ) [১]
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ১৬০৯, ইবনু মাজাহ্ ১৮২৭, দারাকুত্বনী ২০৬৭, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪৮৮, ইরওয়া ৮৪৩, সহীহ আত্ তারগীব ১০৮৫, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩৫৭০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮১৮-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সদাক্বায়ে ফিতরের উদ্দেশ্য খুব সুন্দরভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এটিকে সাওমকে অযথা কথা ও খারাপ আলাপ-আলোচনা থেকে পবিত্র করার জন্য এবং গরীব-মিসকীনদের খাদ্য দেওয়ার জন্য ফরজ করেছেন। তাই ফিতরা শুধু “কত টাকা” বা “কত পরিমাণ” প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এর ভেতরে রোজাদারের নিজের সংশোধন এবং সমাজের দরিদ্র মানুষের খাবারের প্রয়োজন—দুটিই আছে। রমযানে মানুষ ভুল কথা বা অসংযত আচরণে পড়ে যেতে পারে; ফিতরা সেই ঘাটতির জন্য একটি পবিত্রতার দিক হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে মিসকীনদের আনন্দ ও খাবারের ব্যবস্থা হয়। তাই ফিতরা নিজের রোজার ভুলের কথা মনে করায় এবং অন্যের খাবারের দরকারও সামনে আনে। এই দুই উদ্দেশ্যই হাদিসের মূল কথায় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সদাক্বায়ে ফিতর রোজার ঘাটতি পবিত্র করার একটি কারণ।
- এতে গরীব-মিসকীনের খাবারের প্রয়োজন দেখা হয়েছে।
- রোজার শেষে নিজের ভুল ও অন্যের হক—দুটিই মনে রাখা দরকার।
