৫/৮. অধ্যায়ঃ
কবর জিয়ারত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
বাকী কবরস্থানের দোয়া ও মৃত্যুর স্মরণ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৭৬৬-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৬৬-[৫]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ كُلَّمَا كَانَ لَيْلَتُهَا مِنْ رَسُولِ اللّهِ ﷺ يَخْرُجُ مِنْ اخِرِ اللَّيْلِ إِلَى الْبَقِيعِ فَيَقُولُ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَأَتَاكُمْ مَا تُوعِدُونَ غَدًا مُؤَجَّلُونَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللّهُ بِكُمْ لَاحِقُوْنَ اللّهُمَّ اغْفِرْ لِأَهْلِ بَقِيْعِ الْغَرْقَدِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে আসতেন, সেদিন শেষ রাতে উঠে তিনি বাক্বী’তে (মাদীনার ক্ববরস্থান) চলে যেতেন। (ও স্থানে) তিনি বলতেন, “আসসালা-মু ‘আলায়কুম দা-রা ক্বওমিন মু‘মিনীন, ওয়া আতা-কুম মা-তূ‘ইদূনা গাদান মুআজ্জালূনা, ওয়া ইন্না- ইনশা-অল্ল-হু বিকুম লা-হিকূন, আল্ল-হুম্মাগ্ফির লিআহ্লি বাক্বী‘ইল গার্ক্বদ” (অর্থাৎ হে মু‘মিনের দল! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদেরকে আগামীকালের (ক্বিয়ামতের) যে প্রতিশ্রুতি (সাওয়াব অথবা শাস্তি) দেয়া হয়েছিল তা তোমরা কি পেয়ে গেছ? যে ব্যাপারে তোমাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল (ক্বিয়ামাত পর্যন্ত)। আর নিশ্চয়ই আমরাও আল্লাহ চাইলে তোমাদের সাথে মিলিত হবই। হে আল্লাহ! বাক্বী‘ গারক্বদ্বাসীদেরকে মাফ করে দিন!)। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৯৭৪, নাসায়ী ২০৩৯, ইবনু হিব্বান ৩১৭২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭২১০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৫৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৬৬-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রা.) জানান, তাঁর পালার রাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শেষ রাতে বাকী কবরস্থানে যেতেন। সেখানে তিনি মুমিন কবরবাসীদের সালাম দিতেন, তাদের প্রতিশ্রুত বিষয় এসে গেছে—এ কথা উল্লেখ করতেন, এবং বলতেন যে আল্লাহ চাইলে আমরাও তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। শেষে তিনি বাকী‘ গারক্বদবাসীদের জন্য মাগফিরাত চাইতেন। এই হাদিসে কবর যিয়ারতের দোয়া, কবরবাসীদের জন্য সালাম এবং মাগফিরাত—সব একসঙ্গে আছে। বিশেষ করে রাতের নিস্তব্ধতায় এই আমল মানুষের মনে আখেরাতের কথা জাগায়। তবে হাদিসের ভাষার বাইরে অতিরিক্ত নিয়ম বানানো ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, কবরবাসীদের জন্য দোয়া করা, নিজের মৃত্যু স্মরণ করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) বাকী কবরস্থানে কবরবাসীদের সালাম দিতেন।
- কবরবাসীদের জন্য মাগফিরাত চাওয়া শেখানো হয়েছে।
- কবর যিয়ারত জীবিত মানুষের নিজের পরিণতি মনে করায়।
- দোয়ার ক্ষেত্রে নববী শব্দগুলো সংক্ষিপ্ত ও অর্থপূর্ণ।
