৫/৩. অধ্যায়ঃ
মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয় - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মৃতকে চুমু ও কান্না: নববী শোকের আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৬২৩-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৬২৩-[৮]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَبَّلَ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ وَهُوَ مَيِّتٌ وَهُوَ يَبْكِىْ حَتّى سَالَ دُمُوعُ النَّبِيِّ ﷺ عَلى وَجْهِ عُثْمَانَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’উসমান ইবনু মায’উন-এর মৃত্যুর পর তাঁকে চুমু দিয়েছেন। এরপর অঝোরে কেঁদেছেন, এমনকি তাঁর চোখের পানি উসমানের চেহারায় টপকে টপকে পড়েছে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১৬৩, আত্ তিরমিযী ৯৮৯, ইবনু মাজাহ্ ১৪৫৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭০, আহমাদ ২৩৬৪৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬২৩-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাযি. বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উসমান ইবনু মাযউন রাযি.-এর মৃত্যুর পর তাঁকে চুমু দিয়েছেন এবং কেঁদেছেন। তাঁর চোখের পানি উসমান রাযি.-এর চেহারায় পড়েছিল। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বাভাবিক কান্না দোষের বিষয় নয়, যদি তা সীমা ছাড়িয়ে অভিযোগ বা অস্থিরতায় না যায়। এখানে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কোমলতা, ভালোবাসা এবং মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রকাশ পেয়েছে। মৃতকে চুমু দেওয়ার বিষয়টিও এই হাদিসে সরাসরি এসেছে। তাই শোকের সময় ইসলামের শিক্ষা শুধু ধৈর্য নয়; বরং দয়া, মায়া ও মানবিক অনুভূতিকেও জায়গা দেয়। এই হাদিস শোকের আদব, মৃতের সম্মান এবং নববী আচরণ বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বাভাবিক কান্না মানবিক অনুভূতি।
- মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানো ইসলামী আদবের অংশ।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা রাখতেন।
- শোকের সময় ধৈর্য ও কোমলতা একসাথে রাখা যায়।
