৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
দোয়া কুনুত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
রমযানের কিয়াম: ঈমান ও সওয়াবের আশায় রাতের ইবাদত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৯৬-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৯৬-[৭]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يَرْغَبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ فِيهِ بِعَزِيْمَةٍ فَيَقُولُ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه. فَتُوُفِّيَ رَسُوْلُ اللّهِ ﷺ وَالْأَمَرُ عَلى ذلِكَ ثُمَّ كَانَ الْأَمْرُ عَلى ذلِكَ فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلَافَةِ عُمَرَ عَلى ذلِكَ» . رَوَاهُ مُسلم
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানের মাসে ক্বিয়ামুল লায়লের উৎসাহ দিতেন (তারাবীহ সালাত), কিন্তু তাকিদ করে কোন নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেন, যে লোক ঈমানের সঙ্গে ও পুণ্যের জন্যে রমাযান মাসে রাত জেগে ‘ইবাদত করে তার পূর্বের সব সগীরাহ্ গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ওফাতের পর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে গেল। (অর্থাৎ তারাবীহের জন্য জামা‘আত নির্দিষ্ট ছিল না, বরং যে চাইতো সওয়াব অর্জনের জন্যে আদায় করে নিত)। আবূ বাক্রের খিলাফতকালেও এ অবস্থা ছিল। উমারের খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ অবস্থা ছিল। শেষের দিকে উমর তারাবীহের সালাতের জন্যে জামা‘আতের ব্যবস্থা করেন এবং তখন থেকে লাগাতার তারবীহের জামা‘আত চলতে থাকল। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ২০০৯, মুসলিম ৮৫৯; শব্দবিন্যাস মুসলিমের।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৯৬-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযানের কিয়ামুল লাইল বা রাতের ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দিতেন। তবে তিনি কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় রমযানে রাত জেগে ইবাদত করে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। বর্ণনায় আরও এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর বিষয়টি আগের মতোই ছিল। আবূ বকর (রাঃ)-এর সময়ে এবং উমর (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম দিকেও এভাবেই চলেছিল। এই হাদিস তারাবীহ, কিয়াম রমযান, ঈমান ও ইখলাসের সঙ্গে রাতের ইবাদতের গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমযানের রাতে ইবাদতের প্রতি নবীজি উৎসাহ দিয়েছেন।
- এই ইবাদত ঈমান ও সওয়াবের আশায় হওয়া উচিত।
- হাদিসে কঠোর নির্দেশ নয়, বরং উৎসাহের ভাষা এসেছে।
