৪/৩১. অধ্যায়ঃ
রাতের সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
জেনে রাখা ভাল যে, সালাতুল লায়ল, ক্বিয়ামুল লায়ল ও তাহাজ্জুদ একই সালাতের বিভিন্ন নাম। যার ওয়াক্ত ’ইশার সালাতের পর থেকে ফাজর (ফজর) হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তবে এটাও বলা হয়ে থাকে যে, বিশেষভাবে তাহাজ্জুদ ঐ সালাতকে বলা হয় যা শেষ রাতে আদায় করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই অগ্রগণ্য।
রাতের সালাতে দীর্ঘ রুকু, সিজদা ও রব্বিগফির লী
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২০০-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২০০-[১]
عَنْ حُذَيْفَةَ: أَنَّه رَأَى النَّبِيَّ ﷺ يُصَلِّىْ مِنَ اللَّيْلِ وَكَانَ يَقُولُ: «اللهُ أَكْبَرُ» ثَلَاثًا «ذُوْ الْمَلَكُوْتِ وَالْجَبَرُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ» ثُمَّ اسْتَفْتَحَ فَقَرَأَ الْبَقَرَةَ ثُمَّ رَكَعَ فَكَانَ رُكُوعُه نَحْوًا مِنْ قِيَامِه فَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِه: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ» ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَه مِنَ الرُّكُوعِ فَكَانَ قِيَامُه نَحْوًا مِنْ رُكُوعِه يَقُولُ: «لِرَبِّيَ الْحَمْدُ» ثُمَّ سَجَدَ فَكَانَ سُجُودُه نَحْوًا مِنْ قِيَامِه فَكَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِه: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلى» ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَه مِنَ السُّجُودِ وَكَانَ يَقْعُدُ فِيمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوًا مِنْ سُجُودِه وَكَانَ يَقُولُ: «رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي» فَصَلّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ قَرَأَ فِيهِنَّ (الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ وَالنِّسَاءَ وَالْمَائِدَةَ أَوِ الْأَنْعَامَ). شَكَّ شُعْبَةُ) رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাত্রে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করতে দেখেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার "আল্ল-হু আকবার" বলে এ কথা বলেছেন : "যুল মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল 'আযামাতি'। তারপর তিনি সুব্হা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা পড়ে সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ পড়তেন।এরপর রুকূ' করতেন। তাঁর রুকূ' প্রায় ক্বিয়ামের মতো (দীর্ঘ) ছিল। রুকূ'তে তিনি সুব্হা-না রব্বিআল 'আযীম বলেছেন। তারপর রুকূ' থেকে মাথা উঠিয়ে প্রায় রুকূ' সমপরিমাণ সময় দাঁড়িয়েছেন। (এ সময়) তিনি বলতেন, 'লিরব্বিয়াল হাম্দুই অর্থাৎ সব প্রশংসা আমার রবের জন্যে।তারপর তিনি সিজদা করেছেন। তাঁর সাজদার সময়ও তাঁর 'ক্বাওমার' বরাবর ছিল। সাজদায় তিনি বলতেন, 'সুব্হা-না রব্বিয়াল আ'লা-। তারপর তিনি সিজদা হতে মাথা উঠালেন। তিনি উভয় সিজদার মাঝে সিজদার পরিমাণ সময় বসতেন। তিনি বলতেন, 'রব্বিগ্ফির লী, 'রব্বিগ্ফির লী' হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করো। হে আল্লাহ আমাকে মাফ করো।এভাবে তিনি চার রাক্'আত (সালাত) আদায় করলেন। (এ চার রাক্'আত সালাতে) সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্, আ-লি 'ইমরান, আন্-নিসা, আল মায়িদাহ্ অথবা আল আন্'আম পড়তেন। এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারী শু'বার সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, হাদীসে শেষ সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ উল্লেখ করা হয়েছে না সূরাহ্ আল আন্'আম। (আবূ দাঊদ) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৮৭৪, নাসায়ী ১০৬৯, ১১৪৫, আহমাদ ২৩৩৭৫, সুনান আস্ সুগরা লিল বায়হাক্বী ৪১৫, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৯৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২০০-[১]-এর সারসংক্ষেপ
হুযাইফাহ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাতের সালাত আদায় করতে দেখেন। তিনি তিনবার আল্লাহু আকবার বলেন এবং আল্লাহর মালাকূত, জাবারূত, কিবরিয়া ও আযমতের কথা বলেন। এরপর সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা পড়ে সূরা আল বাকারা শুরু করেন। তাঁর রুকু কিয়ামের কাছাকাছি দীর্ঘ ছিল। রুকুতে তিনি সুবহানা রব্বিয়াল আযীম বলতেন। রুকু থেকে ওঠার পরও প্রায় রুকুর সমপরিমাণ দাঁড়াতেন এবং বলতেন, লিরব্বিয়াল হামদ। সিজদাও দীর্ঘ ছিল, সেখানে বলতেন সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা। দুই সিজদার মাঝে সিজদার মতো সময় বসতেন এবং বলতেন রব্বিগফির লী, রব্বিগফির লী। চার রাকআতে তিনি বড় বড় সূরা পড়েন। হাদিসটি রাতের সালাতের গভীরতা, তাসবীহ, দোয়া এবং ধীরতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদার বর্ণনা এসেছে।
- রুকুতে সুবহানা রব্বিয়াল আযীম এবং সিজদায় সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা পড়ার কথা আছে।
- দুই সিজদার মাঝে রব্বিগফির লী দোয়া পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।
- সালাতে ধীরতা ও প্রতিটি অবস্থানে মনোযোগের শিক্ষা আছে।
