১৮/১. অধ্যায়ঃ

কোন ঋতুবতী মহিলাকে তার বিনা অনুমতিতে তালাক দেয়া হারাম, যদি কেউ তার বিপরীত করে তাহলে তালাক হয়ে যাবে এবং তাকে তা ফিরিয়ে নিতে আদেশ করতে হবে।

হায়েয অবস্থায় তালাক: ইদ্দত ও ফিরিয়ে নেওয়ার নববী নির্দেশ

আল লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৩৬

حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذلِكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مُرْه فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لِيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ، ثُمَّ تَحِيضَ، ثُمَّ تَطْهُرَ، ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ، وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ؛ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ

আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন ‘উমার (রহ.) হতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূল এর যুগে তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় ত্বলাক্ব দেন। ‘উমার ইব্‌ন খাত্তাব (রাঃ) এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে এবং নিজের কাছে রেখে দেয় যতক্ষণ না সে মহিলা পবিত্র হয়ে আবার ঋতুবতী হয় এবং আবার পবিত্র হয়। অতঃপর সে যদি ইচ্ছে করে, তাকে রেখে দিবে আর যদি ইচ্ছে করে তবে সহবাসের পূর্বে তাকে ত্বলাক্ব দেবে। আর এটাই ত্বলাক্বের নিয়ম, যে নিয়মে আল্লাহ্ তা’আলা স্ত্রীদের ত্বলাক্ব দেয়ার বিধান দিয়েছেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৮ : ত্বালাক (বিবাহ বিচ্ছেদ), অধ্যায় ১, হাঃ ৫২৫১; মুসলিম, পর্ব ১৮ : তৃক, হা, অধ্যায় ১, হাঃ ১৪৭১ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৮ম খণ্ডটি ১৯৯২ সালের ছপা অনুযায়ী ৪৮৭০ নং হাদীসে শেষ হয়েছে। কিন্তু ৯ম খণ্ডের শুরুতে ১৯৯৫ সালের প্রথম প্রকাশ অনুযায়ী ৪৭৬২ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে বিধায় আমরাও সে নম্বর অনুযায়ী পুনরায় নম্বর প্রদান করেছি।

আল লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৩৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন। ‘উমার (রাঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি নির্দেশ দেন—তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে, তারপর স্ত্রী পবিত্র হবে, আবার ঋতুবতী হবে, আবার পবিত্র হবে। এরপর চাইলে রেখে দেবে, আর চাইলে সহবাসের আগে তালাক দেবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) এটিকে সেই ইদ্দতের নিয়ম হিসেবে বলেছেন, যে নিয়মে আল্লাহ স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার বিধান দিয়েছেন। এখানে তালাককে হালকা সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, নিয়ম মেনে, সময় দেখে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। হায়েয অবস্থায় তালাকের হাদিস তাই দাম্পত্য বিচ্ছেদের সময়ও আল্লাহর বিধান মানার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা বাস্তব জীবনে পরিবার, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে আরও সতর্কভাবে দেখতে সাহায্য করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তালাক দিতে হলেও শরিয়তের নিয়ম ও সময় মানতে হয়।
  • হায়েয অবস্থায় তালাকের ঘটনায় নবী (صلى الله عليه وسلم) ফিরিয়ে আনতে বলেছেন।
  • আবেগের সময় সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিয়মের দিকে ফিরে আসা জরুরি।
  • সহবাসের আগে পবিত্র অবস্থায় তালাকের কথা হাদিসে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন