১/৩০. অধ্যায়ঃ
ঐ ব্যক্তি কুফরি করল যে বলল অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টি আল্লাহর রহমত: নক্ষত্রের প্রভাব বলা থেকে সতর্কতা
আল লু'লু ওয়াল মারজান : ৪৬
আল লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৪৬
حديث زَيْدِ بْنِ خالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ: صَلّى لَنا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاةَ الصُّبْحِ بالحُدَيْبِيَةِ عَلى إِثْرِ سَماءٍ كانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلى النَّاسِ فَقالَ: هَلْ تَدْرُونَ مَاذا قَالَ رَبُّكُمْ قَالوا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: أَصْبَحَ مِنْ عِبادي مُؤْمِنٌ بِيَ وَكافِرٌ، فَأَمّا مَنْ قَالَ مُطِرْنا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِيَ وَكافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمّا مَنْ قَالَ مُطِرْنا بِنَوْءِ كَذا وَكَذا فَذَلِكَ كافِرٌ بِيَ وَمُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রহ.) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রাতে বৃষ্টি হবার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফাজরের সলাত আদায় করলেন। সলাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কী বলেছেন? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই উত্তম জানেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ (রব) বলেন, আমার বান্দাদের মধ্য কেউ আমার প্রতি মু’মিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহ্র করুণা ও রহমতের আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়েছে।
সহীহ বুখারী, পৰ্ব ১০ আযান, অধ্যায় ১৫৬, হাঃ ৮৪৬; মুসলিম, পর্ব ১: ইমান, অধ্যায় ৩২, হাঃ ৭১
আল লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তাওহীদ ও বৃষ্টির নিয়ামতকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর হুদায়বিয়াতে ফজরের সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের জানালেন, আল্লাহ বলেছেন—বান্দাদের কেউ তাঁর প্রতি মুমিন হয়েছে, কেউ কাফির হয়েছে। যে বলে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি পেয়েছি, সে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলে, অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে, সে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী। বৃষ্টি আল্লাহর রহমত—এই বিশ্বাস মুসলিমের ঈমানকে পরিষ্কার রাখে। হাদিসটি শেখায়, নিয়ামত পেলে কৃতিত্ব আল্লাহকে দিতে হবে। নক্ষত্র, বস্তু বা অন্য কোনো কারণকে স্বাধীন প্রভাবশালী মনে করে কথা বলা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৃষ্টি ও নিয়ামতকে আল্লাহর দয়া হিসেবে মানতে হবে।
- নক্ষত্রকে স্বাধীন প্রভাবশালী মনে করে বৃষ্টির কারণ বলা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- নিয়ামত পেলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ঈমানের পরিচয়।
