৩৯/৩৮. অধ্যায়ঃ
গৃহে বসবাসকারী গিরগিটি মেরে ফেলাই শ্রেয়।
গিরগিটি ক্ষতিকর প্রাণী: আয়িশা (রাঃ)-এর বর্ণনার সহজ ব্যাখ্যা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪৪৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৪৪৪
حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ لِلْوَزَغِ فُوَيْسِقٌ وَلَمْ أَسْمَعْهُ أَمَرَ بِقَتْلِهِ
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) গিরগিটিকে ক্ষতিকর (রক্তচোষা) প্রাণী বলেছেন। কিন্তু একে হত্যা করার আদেশ দিতে আমি তাঁকে শুনিনি।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৮ : ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৮৩১; মুসলিম, পর্ব ২৯: হুদূদ, অধ্যায় ৩৯, হাঃ ২২২৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৪৪-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: গিরগিটি। এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) একটি সূক্ষ্ম কথা বলেছেন। তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) গিরগিটিকে ক্ষতিকর বা ফুয়াইসিক প্রাণী বলেছেন। কিন্তু তিনি এটাও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে গিরগিটি হত্যা করার আদেশ দিতে শুনেননি। এই বাক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন বর্ণনাকারী যা শুনেছেন তা বলেছেন, আর যা শুনেননি সেটিও পরিষ্কার করেছেন। এতে হাদিস গ্রহণে সততার শিক্ষা আছে। গিরগিটি সম্পর্কে ইসলামী আলোচনায় এই হাদিসের মূল বিষয় হলো—এটি ক্ষতিকর প্রাণী হিসেবে উল্লেখিত। তবে এই নির্দিষ্ট বর্ণনায় হত্যার আদেশ সরাসরি আয়িশা (রাঃ)-এর শোনার কথা হিসেবে আসেনি। তাই ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিস বর্ণনায় যা জানা আছে, তা-ই বলা উচিত।
- আয়িশা (রাঃ) শুনেছেন এবং না শুনেছেন—দুই দিকই পরিষ্কার করেছেন।
- গিরগিটিকে এই বর্ণনায় ক্ষতিকর প্রাণী বলা হয়েছে।
- হাদিস বুঝতে বর্ণনার শব্দের সীমা মানা দরকার।
