৩৪/৯. অধ্যায়ঃ
খরগোশ খাওয়া বৈধ।
খরগোশ খাওয়া যাবে কি? আনাস (রাঃ)-এর হাদিসের সহজ ব্যাখ্যা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৭৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৭৬
حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: أَنْفَجْنَا أَرْنَبًا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ، فَسَعَى الْقَوْمُ فَلَغَبُوا، فَأَدْرَكْتُهَا، فَأَخَذْتُهَا، فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ، فَذَبَحَهَا، وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَرِكِهَا أَوْ فَخِذَيْهَا فَقَبِلَهُ، وَأَكَلَ مِنْهُ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(মাক্কাহর অদূরে) 'মার্রায্ যাহরান' নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশ তাড়া করলাম। লোকেরা সেটার পিছনে ধাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি সেটাকে পেয়ে গেলাম এবং ধরে আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি সেটাকে যব্হ করে তার পাছা অথবা রাবী বলেন, দুই উরু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে পাঠালেন। [শু‘বাহ (রহঃ) বলেন,] দুইটি উরুই, এতে কোন সন্দেহ নেই। তখন নবী (ﷺ) তা গ্রহণ করেছিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫১ : হিবা এর ফাযীলাত এবং এর জন্য উদ্বুদ্ধ করা, অধ্যায় ৫, হাঃ ২৫৭২; মুসলিম ৩৪ শিকার, যবহ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৯৫৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বলেন, মাররায যাহরান নামক স্থানে তারা একটি খরগোশ তাড়া করেন। লোকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়লে তিনি সেটি ধরে আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যান। আবূ ত্বলহা (রাঃ) সেটি যবেহ করেন এবং তার অংশ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর খিদমতে পাঠান। নবী (صلى الله عليه وسلم) তা গ্রহণ করেন। এখানে খরগোশ খাওয়ার বিষয়ে একটি বাস্তব ঘটনা পাওয়া যায়। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর গ্রহণ করা খাদ্যের বৈধতার দিকে ইঙ্গিত করে। হাদিসটি শিকার, যবেহ এবং হালাল খাদ্য—তিনটি বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। খরগোশ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন; এই বর্ণনা তাদের জন্য সহজ দলিল। তবে হাদিসে যতটুকু আছে, ততটুকুই বলা উচিত—অতিরিক্ত দাবি করার প্রয়োজন নেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খরগোশ যবেহ করে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পাঠানো হয়েছিল।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) তা গ্রহণ করেছেন—এটি বৈধতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
- শিকার করা প্রাণী বৈধভাবে যবেহ করা দরকার।
- খাদ্যের বিধান জানার জন্য সাহাবীদের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ।
