৭/১১. অধ্যায়ঃ
অপরের বস্তু থেকে সাময়িকভাবে উপকৃত হওয়া -অন্যের মালিকানাধীন সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক
ধার নেওয়া জিনিস ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব
বুলুগুল মারাম : ৮৮৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮৮৯
عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
সামুরাহ বিন্ জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ধাররূপে গৃহীত বস্তু ফেরত না দেয়া পর্যন্ত গ্রহীতা (ক্ষয়-ক্ষতির) দায়ী থাকবে । - হাকিম একে সহীহ বলেছেন ।[৯৫৫]
[৯৫৫] যঈফ, সানাদ ত্রুটিযুক্ত , তাওযিহুল আহকাম ৪/৫৭১ পৃঃইবনু হাজার আসকালানী ফাতহুল বারী ৫/২৮৫ গ্রন্থে বলেন, সামুরা থেকে হাসানের শ্রবণ বিষয়ের মতভেদ অতি আলোচিত । তিনি আত্-তালখীসুল হাবীর ৩/১০২২ গ্রন্থেও একই মন্তব্য করেছেন । ইমাম শওকানী নাইলুল আওত্বার ৬/৪০ গ্রন্থেও অনুরূপ বলেছেন । শাইখ আলবানী যঈফ আবূ দাউদ ৪৭৪, ইরওইয়াউল গালীল ১৫১৬, যঈফুল জামে ৩৭৩৭ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন । আবদুর রহমান মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়ারী ৪/১৫৯ গ্রন্থেও একই মন্তব্য করেছেন । কিন্তু ইমাম যাহাবী আল মুহাযযিব ৭/৩৪১৫ গ্রন্থে এর সনদকে সালেহ বলেছেন, ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সগরী ৫৪৫৫ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন । আহমাদ শাকের উমদাতুত তাফসীর ১/৩৪৪ গ্রন্থে এর বিশুদ্ধতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন ।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ধাররূপে গৃহীত বস্তু ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত গ্রহীতা ক্ষয়-ক্ষতির দায়ী থাকবে। কথাটি ধার বা আরীয়াহ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কেউ কারও কাছ থেকে কোনো জিনিস নেয়, তখন সেটি শুধু ব্যবহার করার বিষয় নয়; ফেরত দেওয়ার দায়িত্বও তার ওপর থাকে। যতক্ষণ না জিনিসটি মালিকের কাছে ফিরে যায়, ততক্ষণ গ্রহীতার দায়িত্ব শেষ হয় না। এই হাদিসে আমানত, ধার নেওয়া বস্তু, ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং দায়িত্ববোধ একসঙ্গে এসেছে। তাই ধার নেওয়ার আগে মানুষকে ভাবতে হবে—সে কি তা ঠিকভাবে ব্যবহার ও ফেরত দিতে পারবে?
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধার নেওয়া জিনিস ফেরত দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব থাকে।
- অন্যের জিনিস ব্যবহার করলে তা রক্ষা করা দরকার।
- লেনদেনে দায়বদ্ধতা বুঝে কাজ করা উচিত।
- ধার নেওয়া বস্তু অবহেলা করা আমানতের পরিপন্থী।
